আশিস কুমার ঘোষ, কলকাতা

কুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক বিশেষ আদেশে ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা। অনেকেই পথে নেমে প্রতিবাদ করছেন। তেমনই প্রতিবাদের পথে নামলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। গত ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে দেবশ্রী রায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পশুপ্রেমী দেবশ্রী রায় বলেন, কুকুরদের জীবনের ও সহানুভূতির অধিকার ভারতীয় সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত। এটা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর শুধু করতে হবে তাই নয়, এই অধিকারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, দিল্লির রাস্তা থেকে সমস্ত পথকুকুরকে সরিয়ে দিতে হবে। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে রাখা হবে। সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড এবং রেলওয়ে স্টেশনের মতো সরকারি জায়গা থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দেয় এবং সেগুলিকে যথাযথভাবে টিকা ও জীবাণুমুক্ত করার পর নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেয়। তবে, আক্রমণাত্মক বা জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরদের সবসময় আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে বলেও ওই নির্দেশে উল্লেখ করা হয়। ওই নির্দেশে আদালত প্রকাশ্যে কুকুরকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ করে এবং জানায় যে, রাজ্যের দায়িত্ব হলো এই নির্দেশাবলী কার্যকর করা। সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশের পর পশুপ্রেমী এবং পশুকল্যাণ সংগঠন-সহ বিভিন্ন এনজিও এই রায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বেঞ্চ বদল করে দেন। পরবর্তীতে সেই নতুন বেঞ্চ এর আগে দুই বিচারপতির বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা স্থগিত রাখে। পরিবর্তে পথকুকুরদের বন্ধ্যাত্বকরণে জোর দেয় আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ জানায়, পথকুকুরদের দিল্লির রাস্তা থেকে নির্দিষ্ট আশ্রয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সঠিক পদ্ধতিতে বন্ধ্যাত্বকরণ এবং প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ করতে হবে। তার পর আবার যেখান থেকে কুকুরদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে ফিরিয়ে দিয়ে যেতে হবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের কথা বলেছে আদালত। যে সমস্ত কুকুর র‌্যাবিস আক্রান্ত বা আগ্রাসী স্বভাবের, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রেই রেখে দিতে হবে। আর রাস্তায় ফেরানো যাবে না। এ ছাড়া, আদালত রাস্তায় প্রকাশ্যে কুকুরদের খাওয়ানোর অনুমতি দেয়নি।

যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে দেবশ্রী রায় আরও বলেন, সমাজে কুকুরের ভূমিকা অপরিসীম। সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চ আদালতকে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখতে হবে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী দিনে কুকুরের বেঁচে থাকার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে পথে নামবে দেবশ্রী রায় ফাউন্ডেশন। এদিন এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সপ্তাদিপা সিনহা, অভিনেতা রাহুল বর্মন প্রমুখ। আলোচকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, আগামী ২৬-এর নির্বাচনে ‘নো ডগ নো ভোট’ ইস্যু হতে পারে। প্রসঙ্গত, কুকুর সংক্রান্ত মামলার পরিধি দেশব্যাপী বিস্তৃত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন পশুপালন কেন্দ্র, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নোটিস জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাইকোর্ট থেকে অনুরূপ মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সব বিচারাধীন মামলা একত্রিত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হবে। আট সপ্তাহ পরে আবার এই মামলার শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন দিল্লির পশুপ্রেমীরা। মামলাকারীদের কেউ কেউ বলছেন, এই রায়ে ভারসাম্য রয়েছে। কারণ, সকল পথকুকুরকে প্রমাণ ছাড়া ‘আগ্রাসী’ বা ‘হিংস্র’ বলে দেগে দেওয়া যায় না। আদালতের রায়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন পশুপ্রেমীরা।

159 Views