আশিস কুমার ঘোষ, কলকাতা
আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে পয়লা জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চন্দননগর হাসপাতাল মাঠে শুরু হতে চলেছে ২৫তম চন্দননগর বইমেলা। ব্যবস্থাপনায় চন্দননগর ইস্পাত সংঘ। সহযোগিতায় চন্দননগর পুরনিগম। উল্লেখ্য, ইস্পাত সংঘের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি, আবেগ, বহু উন্মাদনা। ১৯৮৮ সালে চন্দননগরে গঙ্গার ঘাটের এক চায়ের দোকানের আড্ডায় সমাজসেবার কাজে ব্রত নিয়ে তৈরি হয়েছিল ইস্পাত সংঘ। এক সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে সাধের চন্দননগর ইস্পাত সংঘ গড়ে ওঠায় সেদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে।
নতুন শতাব্দীতে ২০০০ সালে চন্দননগরের মানুষের ইচ্ছাপূরণে জাহ্নবী নিবাস কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হয় চন্দননগর বইমেলা। স্লোগান ছিল বইমেলায় আসুন, অন্তত একটা বই কিনুন। এই মেলাকে সর্বজনীন মেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা নিয়েই ২০০২ সালে তৃতীয় বর্ষে গড়ে ওঠে বইমেলা বান্ধব সমিতি। অনেক যুবক-যুবতী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ এই সংগঠনের সদস্য হন। এরপর বইমেলা বান্ধব সমিতি এবং চন্দননগর ইস্পাত সংঘ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে তিলে তিলে ওই বইমেলাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আজ পায়ে পায়ে সেই মেলা পৌঁছেছে ২৫ বছরে। চন্দননগর বইমেলায় গত ২৪ বছরে এসেছেন নানা গুণীজন, বহু লেখক,কবি, চলচ্চিত্রকার। আর প্রত্যেকবার বইমেলা সেজেছে নতুন নতুন আঙ্গিকে। নিত্য নতুন বিষয়ে ভাবনা চলতি ভাষায় থিম। এই থিমে কখনও চন্দননগরে রবীন্দ্রনাথ, কখনও অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের কথা, কখনও আলোকশিল্পী, তো কখনও চন্দননগরের ৪৭টি ঘাটের ইতিহাস। আর প্রত্যেকবারই প্রকাশিত হয়েছে নির্দিষ্ট বছরের থিমের উপর, হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের উপর, গবেষণামূলক পুস্তিকা। আর তাই আপামর জনগণ জানতে পারে ফরাস ডাঙ্গার প্রাচীন ইতিহাস। এবারের বইমেলা বিগত ২৪ বছরের পথ চলার ইতিহাসকে থিম করে দেওয়া হয়েছে ‘পঁচিশে চন্দননগর বইমেলা’।
বৃহস্পতিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চন্দননগর ইস্পাত সংঘ ও বই মেলা কমিটির সভাপতি সুশান্ত সিংহ জানান, ২৫ তম বইমেলায় ছোট বড় মিলে ৭০টির মতো স্টল, লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন এবং সাংস্কৃতিক মঞ্চে সজ্জিত হবে মেলা প্রাঙ্গণ। নামিদামি প্রকাশকদের মধ্যে স্টলে থাকবে আনন্দ পাবলিশার্স, বিশ্বভারতী, উদ্বোধন পাবলিকেশন্স, দেজ পাবলিশার্স, পত্রভারতী, শৈবা প্রকাশনী, দেব সাহিত্য কুটির, চিলড্রেন বুক সেন্টার, অক্সফোর্ড, শিশু ভারতী, দক্ষ ভারতী, উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির, গীতা প্রেস, ইস্কন-সহ নানা প্রকাশন সংস্থা। চন্দননগর বইমেলা সংগঠিত করার উদ্দেশ্যই ছিল স্কুল-পড়ুয়াদের বই পড়ায় ও বই কেনায় উৎসাহিত করা। তাই গত কয়েক বছর ধরে হুগলি জেলার স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বইমেলায় বিনামূল্যে প্রবেশপত্র বিতরণ করা হয়। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমর মিত্র, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, সাংবাদিক অরূপ কালি প্রমুখ।


