আশিস কুমার ঘোষ, কলকাতা
বাংলার গর্ব, বাঙালির গর্ব পারুল প্রকাশনী। বুধবার সেই পারুল প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা গৌরদাস সাহার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপিত হলো। এদিন কলকাতার ডা: বিসি রায় অডিটোরিয়ামে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মদিন উদযাপিত হয়। সংবর্ধিত করা হয় বেশ কয়েকজন গুণী মানুষকে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞান এবং সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এঁদের সংবর্ধিত করা হয়। গুণীজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুরঞ্জন প্রসাদ চক্রবর্তী, অধ্যাপক অসিত কুমার মণ্ডল, ড. সুভাষ চন্দ্র রায়, প্রফেসর ইমন কল্যাণ লাহিড়ী, ড. সন্দীপ রায়, তাপস কুমার পুরকাইত, প্রফেসর চিত্তরঞ্জন সিনহা, প্রফেসর মদন মোহন ভট্টাচার্য, প্রফেসর বৃন্দাবন ঘোষ, প্রফেসর সন্তোষ কুমার ঘড়ই এবং প্রফেসর সম্পত মুখার্জি। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালে ত্রিপুরা ও বাংলায় একযোগে যাত্রা শুরু প্রকাশন সংস্থার। এক তরুণ গণিত শিক্ষক ত্রিপুরার আগরতলায় বড়দোয়ালী হাইস্কুলের মাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রকাশ করলেন একটি জীবন বিজ্ঞান সহায়িকা। প্রকাশনা সংস্থার নাম রাখলেন নিজের মায়ের নামে -পারুল! পারুল প্রকাশনী। এই গণিত শিক্ষকের নামই গৌরদাস সাহা। তিনি আজ ৪৪ বছর ধরে নিখাদ বাঙালি একটি প্রকাশনা সংস্থাকে নিয়ে গেছেন বিন্দু থেকে উৎকর্ষ ও প্রতিষ্ঠার শীর্ষবিন্দুতে। বাঙালির ঘরে ঘরে তো বটেই, সমগ্র পূর্ব ভারত জুড়ে আজ পারুল প্রকাশনীর পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়ক বইয়ের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। এরই পাশাপাশি পারুল প্রকাশনীর সর্বভারতীয় প্রকাশনা উদ্যোগ বিগ বুকস-এর বই ছড়িয়ে পড়েছে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী ভারতের সর্বত্র। শুধু টেক্সট ও রেফারেন্সই নয়, সাহিত্যের বইয়ের ক্ষেত্রেও পারুল প্রকাশনী একের পর কাজ করে চলেছে। ত্রিপুরার আঞ্চলিক ককবরক ভাষার রামায়ণ, খণ্ডে খন্ডে ত্রিপুরার সুপ্রাচীন রাজবংশের ইতিহাস- রাজমালা, রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য বালক উপেন্দ্রকিশোর সম্পাদিত সন্দেশের প্রথম তিনটি দুষ্প্রাপ্য বর্ষ, ইংরেজি গীতাঞ্জলির প্রামাণ্য সংস্করণ, সুনীল শীর্ষেন্দু বুদ্ধদেব বাণী মহাশ্বেতা শোভিত বাংলা চিরায়ত গল্পের অনন্য সংগ্রহ মুহূর্ত কথা – এসবের মাধ্যমেই গৌরদাস সাহার অভিভাবকত্বে পারুল প্রকাশনী সাহিত্যপ্রেমী বাঙালি পাঠকের মনে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছে। পারুল প্রকাশিত বাংলা চিরায়ত কবিতার সংকলন কবিতা-জীবনানন্দ ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়-সমালোচক এর প্রশংসাধন্য একটি সিরিজ। বাংলা কমিক্স-এর পুনরুজ্জীবনেও পারুল প্রকাশনী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।