ওয়েব ডেস্ক : বিহারের জামুই জেলায় এক কিশোর ও এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্তদের ‘শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ বা পকসো-এর অধীনে বিচার করা হোক। সোমবার এই দাবি করেছেন রাহুল গান্ধি। উল্লেখ্য, অনলাইনে ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে গেছে যে, জামুইয়ের একটি অজ্ঞাত স্থানে একদল লোক ওই দুই নাবালক-নাবালিকাকে ঘিরে ধরেছে। এদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে রাহুল লিখেছেন, ‘এমন আচরণ করার অধিকার পুরুষদের কে দিয়েছে?’ লোকসভার বিরোধী দলনেতা জননিরাপত্তা নিয়ে বিহার সরকারকে প্রশ্ন করে বলেন, এটা ‘সংস্কৃতি’ নয়, এটা পিতৃতন্ত্র বা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিশ্বাস। যে বিশ্বাসে যেকোনও পুরুষ একটি মেয়ের শরীর, তার চলাফেরা, তার পছন্দের ওপর খবরদারি করতে পারে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পকসো এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে খবর। জামুই পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন নিজের পোস্টে রাহুল বলেছেন, বিহার সরকারকে ‘জবাব দিতেই হবে সন্ধ্যা ৭টায় প্রকাশ্য রাস্তায় একটি মেয়ে কেন নিরাপদ নয়।’ তিনি বলেন, ‘ওই ভিডিওতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পকসো আইনে বিচার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ তাঁর প্রশ্ন, ঘটনাটি যদি ১৯ সেপ্টেম্বর ঘটে থাকে, তাহলে অপরাধীরা এখনও জেলে যায়নি কেন? এ ঘটনাকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘দশম শ্রেণির দুজন ছাত্রছাত্রীকে রাস্তায় থামানো হয়। তাদের হয়রানি করা হয়, অপমান করা হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। একটি অল্পবয়সী মেয়ে হাতজোড় করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুনয় করলেও তাকে গায়ে হাত দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। তিনি আরও বলেন যে, যখন নিয়ন্ত্রণকে সংস্কৃতি বলে ভুল করা হয়, তখন এই ধরনের মনোভাব স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, অনলাইনে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একদল লোককে একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে ঘিরে ধরতে দেখা যায়। তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেসময় ছেলেটিকে মেয়েটির থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। এর পরে বেশ কয়েকজন লোক মেয়েটির মুখোমুখি হয়। এক পর্যায়ে মুখ ঢাকা একজন লোক মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে তুলে ধরে এবং তার শরীর স্পর্শ করে, এ সময় মেয়েটিকে চিৎকার করতে ও প্রতিরোধ করতে দেখা যায়। তবে নাবালক ছেলেটি প্রাণপণে বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। অবশেষে তারা দুজন দলটির কাছ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে তাদের দুজনকেই একটি দু-চাকার গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায় এবং তারা লোকগুলোকে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুনয় করছে বলে মনে হয়। ভিডিওগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বিহার পুলিশকে ট্যাগ করেন। এদিন জামুই-এর পুলিশ সুপার দয়াল জানান যে, ভিডিওগুলো পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘জানা গেছে যে ঘটনাটি ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটেছে। দুই বন্ধু, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা দুজনে কোচিংয়ে গিয়েছিল এবং যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে তারা ছবি তোলার জন্য গিয়েছিল।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও জানান, আক্রান্তরা রবিবার পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা একটি আবেদনপত্র জমা দেয়, যার ভিত্তিতে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এফআইআর-এ কারও নাম উল্লেখ না করা হলেও, ভিডিওতে ছয় থেকে সাতজনকে দেখা গেছে এবং তদন্তকালে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। এদিকে, বিহার রাজ্য মহিলা কমিশনের সভাপতি অপ্সরা মিশ্র বলেন যে, তিনি পুলিশ সুপারকে চিঠি লিখে ঘটনাটি সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চাইবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জামুইয়ের জেলা শাসকের সঙ্গেও কথা বলেছি। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তিনি।’

81 Views