ওয়েব ডেস্ক : গত এপ্রিল মাসে মজুরি বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ ইত্যাদি দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেন নয়ডার প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। নয়ডার প্রায় ৮০টি জায়গায় চলে আন্দোলন। শ্রমিক আন্দোলনের সংহতিতে বক্তব্য রাখার দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও সমাজকর্মী আকৃতি চৌধুরী। ২৫ বছরের সেই ছাত্রীকে অবশেষে স্বস্তি দিল এলাহবাদ হাইকোর্ট। ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা জাতীয় সুরক্ষা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে।
গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করে হেবিয়াস কর্পাস মামলা হয় এলাহবাদ হাইকোর্টে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, মনগড়া অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আকৃতিকে। অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে আদালত নয়ডার জেলাশাসক মেঘা রূপমকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। এই জরিমানা তার বেতন থেকে কাটা হবে। উল্লেখ্য, মেঘা রূপম বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যে আইন অনুসারে আকৃতিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাতে অনেক ফাঁক খুঁজে পেয়েছে আদালত। শুনানিতে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয় যে, গত ১২ এপ্রিল সকালে ১০টা ৫৬ মিনিটে গ্রেফতার করা হয় আকৃতিকে। তার আগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের পাথর ছোড়ায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আকৃতির বিরুদ্ধে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬ ধারা অনুসারে ওই ছাত্রীকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। নোটিশ তৈরি করার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, আকৃতি যে আন্দোলনকারীদের উস্কানি দিয়েছে, তার প্রমাণ স্বরূপ ভিডিয়ো জমা দিতে হবে। সেই ভিডিয়ো জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আরও বেশি সময় চায় রাজ্য প্রশাসন। সেই সময় দিতে রাজি হয়নি এলাহবাদ হাইকোর্ট। কারণ, ইতিমধ্যেই পাঁচ মাস জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন আকৃতি। এই শুনানির পরই বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি আচল সচদেবের বেঞ্চ তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
69 Views

