ওয়েব ডেস্ক : বর্তমান সময়ে সংস্কৃত শিক্ষা ও টোল শিক্ষার পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজন। বললেন অশোকনগরে পুরোহিত মিলন উৎসবে আগত পণ্ডিতরা। এই দাবিতে সরব হলেন তাঁরা। ২৩ নভেম্বর রবিবার অশোকনগর চার নম্বর স্কিম অগ্রদূত ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় দ্বাদশ পুরোহিত মিলন উৎসব। আয়োজক অশোকনগর কল্যাণগড় পুরোহিত চেতনা কল্যাণ সমিতি। এই উৎসবে আগত পণ্ডিতরা তাঁদের অসামান্য জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে সনাতন ধর্ম ও পৌরহিত্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিশেষভাবে বর্তমান সময়ে সংস্কৃত শিক্ষা ও টোল শিক্ষার পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তার দাবি জানান তাঁরা। নতুন প্রজন্মের পুরোহিতদের জন্য সরকারি উদ্যোগে সুবিন্যস্ত শিক্ষার অভাবকেও তুলে ধরেন।
এদিন সকালে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত এবং মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সারাদিন ধরে চলে মঙ্গলাচরণ, গীতা পাঠ, চণ্ডীপাঠ এবং নানা শাস্ত্রীয় আলোচনা। মধ্যাহ্নভোজনের পর ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় ছিল ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।উল্লেখ্য, পুরোহিত সমিতির আমন্ত্রণে এদিন উপস্থিত ছিলেন বৃহন্নলা সমাজের সদস্যারা। মঞ্চে তাঁদের সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁদের হাত দিয়েই প্রায় ১০০ জন দুস্থ মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সমিতির পক্ষ থেকে আরও প্রায় ৫০ জন অসহায় নাগরিককে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন অনন্ত চক্রবর্তী।
এই উৎসবে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন পণ্ডিত গোপাল ভট্টাচার্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পণ্ডিত কানন মিশ্র, রাধা গোবিন্দ চক্রবর্তী, বিশ্বরূপ গোস্বামী, রেবতী রঞ্জন ভট্টাচার্য, স্বপন চক্রবর্তী, দেবব্রত চৌধুরী, তাপস ভট্টাচার্য, হরিপদ চক্রবর্তী, পণ্ডিত নির্মল কৃষ্ণ রায় চৌধুরী, উজ্জ্বল মুখার্জী, সুদূর ত্রিপুরা থেকে আগত তুলসী রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রমুখ।
ছবি : আশিস কুমার ঘোষ


