ওয়েব ডেস্ক : রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরে রেল দফতর প্রতিটি স্টেশন সাফ করতে শুরু করেছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদের মাধ্যমে প্রতিটি রেল স্টেশন এলাকা অর্থাৎ রেলের জায়গা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। রেলের এই অমানবিক পদক্ষেপ অগণিত মানুষকে চরম অসহায় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি আজ শনিবার বেলা ১২.৪০ মিনিট নাগাদ বারাসাত জংশন স্টেশনের ৩ নং প্লাটফর্মে যে ছবি দেখা গেল তাতে মনে হচ্ছে, রেল দফতর যাত্রীদের কড়া অনুশাসনের মধ্যেও নিয়ে আসতে চাইছে। স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প কার্যকর করার লক্ষ্যে একধরনের অত্যাচার শুরু করেছে বললে ভুল হবে না। গঙ্গা যমুনা-সহ অন্যান্য নদনদী আবর্জনায় ভরে গেলেও, ‘উন্নয়ন’-এর প্রয়োজনে বনজঙ্গল সাফ করে পরিবেশকে বিপদজনক করে তোলা হলেও রেলপথ ও সড়কপথকে ঝাঁ চকচকেই করতেই হবে। এই বোধহয় স্বছ ভারত পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য!

এদিন যে চিত্র দেখা গেল বারাসাতে সে প্রসঙ্গে আসা যাক। একটি যুবককে রেললাইনে থুতু ফেলার অপরাধে আটক করেছে এক মহিলা রেলকর্মী। তার কাছে ২০০ টাকা ফাইন দাবি করছে। ২২-২৫ বছরের সাধারণ ঘরের যুবকের কাছে ২০০ টাকা না থাকাটাই স্বাভাবিক। ওই যুবকের অসহায় মুখচোখ দেখে এই প্রতিবেদক কর্তব্যরত রেলকর্মীকে অনুরোধ করেন, ও তো ভুল করে ফেলেছে, ছেড়ে দিন। মহিলা রেলকর্মী বক্তব্য, আপনি আপনার কাজে যান। আমাকে আমার কাজ করতে দিন। না হলে ২০০ টাকা ফাইন দিয়ে ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তখন প্রতিবেদক বলেন, এমন ব্যবস্থায় তো মানুষ অভ্যস্ত নয়। আপনারা পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষণা করে যাত্রীদের সচেতন করুন, তারপর এমন কড়া পদক্ষেপ নেবেন। তার জবাবে ওই রেলকর্মী বলেন, আমরা কি করব তা আপনার থেকে শুনতে চাই না। এরপর, এটা ঠিক হচ্ছে না বলে প্রতিবেদককে চলে আসতে হয়।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, যাত্রীদের প্রতি বিজ্ঞপ্তি না করে বা কোনও রকম ঘোষণা না করে এমন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি? মেট্রো রেল যেমন প্রথম থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশকিছু কড়া পদক্ষেপ করার ফলে পরিচ্ছন্ন থাকে মেট্রো রেলের সমস্ত জায়গা, পূর্ব রেল কি তেমন কিছু করেছে? একসময় ট্রেনে এবং প্লাটফর্মে ধূমপান চালু থাকলেও রেল এনিয়ে কড়া পদক্ষেপ করার ফলে এখন রেলের পরিসরে কেউ ধূমপান করে না। যত্রতত্র ময়লাও ফেলে না। বিনা টিকিটের যাত্রী এখন প্রায় নেই বললেই চলে। এসব হয়েছে রেলের তরফে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে লাগাতার ঘোষণায় ও সতর্কবার্তায়। তেমন ঘোষণা না করে এমন তুঘলকি পদক্ষেপ বা উৎপাত কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এখন রেলে যাতায়াত করলে বাদামের খোসা, বাদাম-চানাচুরের প্যাকেট, জলের বোতল-সহ যেকোনও ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিন খুঁজে তাতে ফেলুন। হাঁচি-কাশি, থুতু-কফ ফেলতে হলে খুঁজে নিয়ে বেসিনে ফেলুন, আর না পেলে এসব ফেলার ব্যবস্থা সঙ্গে রাখুন বা গিলে খান। এর অন্যথা হলে ফাইন বা জরিমানা দিতে হবে। আর না দিতে পারলে জেলে যেতে হবে। ফলে সাবধান! এমন অমানবিক রেলকর্মীর পাল্লায় পড়লে পকেটে কাটা যাবেই অথবা জেলে যেতে হবেই।

104 Views