নাগাল্যান্ড কাণ্ডের পর আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি উত্তরপূর্বের দুই মুখ্যমন্ত্রীর

ওয়েব ডেস্ক : নাগাল্যান্ডে সেনার গুলিতে ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যুর পর ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট (আফস্পা) বা সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন। উত্তরপূর্বের দুই মুখ্যমন্ত্রী নাগাল্যান্ডের নেফিউ রিও ও মেঘালয়ের কনরাড সাংমা এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার আফস্পা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন নেফিউ রিও। তিনি বলেন, ‘নাগাল্যান্ড অশান্ত এলাকা উল্লেখ করে প্রতিবছর আফস্পার মেয়াদ বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে।’ তাহলে আফস্পার মেয়াদ বাড়ানো কেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরই রিও বলেন, নাগাল্যান্ড ও নাগা জনগণ সবসময়ই আফস্পার বিরোধী। অবশ্যই আফস্পা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, এদিন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও ট্যুইটারে লিখেছেন, আফস্পা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্যদিকে, এদিন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব বললেন, রাজ্যের এলাকায় কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করলে কেমন ভুল হতে পারে, তার প্রমাণ নাগাল্যান্ডের ঘটনা। তিনি আরো বলেন, আফস্পা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিল নাগাল্যান্ড ও একই সঙ্গে প্রমাণ করল দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফের কাজের পরিধি বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যের এলাকায় কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করলে কি ধরনের ভুল হয় তার প্রমাণ নাগাল্যান্ডের হত্যাকাণ্ড। তিনি দাবি করেন, উত্তরপূর্বের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে বৈঠক করতে হবে।

গত শনিবার নাগাল্যান্ডের মন জেলায় জঙ্গি দমন অভিযানে নেমে গুলি চালিয়ে ১৪ জন নিরীহ নাগরিককে মেরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। এর জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ওই এলাকা। নিরাপত্তা বাহিনীর ২টি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এক সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে নিয়ে তোলপাড় হয়ে ওঠে দেশের রাজনীতি। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম (সিট) গঠন করে নাগাল্যান্ড সরকার। অন্যদিকে, কোর্ট অফ এনকোয়ারির নির্দেশ দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ট্যুইট করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। রাজ্যের উল্লেখযোগ্য উৎসব হর্নবিল উৎসব বাতিল করে নাগাল্যান্ড সরকার। এদিন সংসদে এ ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন অমিত শাহ। প্রতিবাদে বিরোধী সাংসদরা ওয়াক আউট করেন। এদিনই এ ঘটনা নিয়ে প্রতিরক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, মুখ্যসচিব ও নাগাল্যান্ড পুলিশের রিপোর্ট তলব করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশন ৬ সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছে।

ওয়েব ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Next Post

ভাঁড়ের দল বিজেপি, হিংসার রাজনীতি করে, মন্তব্য জ্যোতিপ্রিয়র

Sat Dec 11 , 2021
ওয়েব ডেস্ক : ‘বিজেপি হলো ভাঁড়ের দল। ওরা হিংসার রাজনীতি করে। ওরা মিথ্যাবাদী। সেইজন্য ওদেরকে কেউ বিশ্বাস করে না। আসন্ন কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজেপি জিরো হয়ে যাবে।’ বললেন রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘এই মুহুর্তে যদি হাবরা পুরসভায় নির্বাচন হয় তাহলে এখানেও বিজেপি জিরো হয়ে যাবে। বিধানসভা ভোটের […]