ওয়েব ডেস্ক : বিচারাধীন সাংবাদিক কেন কারাগারে, প্রশ্ন তুলল ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমদের সংগঠন ডিজিপাব নিউজ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন। আদানি গ্রুপের আনা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় সাংবাদিক রবি নায়ারের কারাগারে আটক রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এই সংগঠন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে ডিজিপাব নিউজ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন বলেছে, এই মামলাটি একজন সাংবাদিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দূরের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ডিজিপাব নায়ারের এই আটককে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে, আদানি গ্রুপ সম্পর্কে তাঁর প্রতিবেদন ও পোস্টের কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিজিপাব একটি মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তাদের আপত্তি জানিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, ‘যদি কোনও একটি আপিল এখনও বিচারাধীন থাকে, তাহলে সেই আপিলের চূড়ান্ত ফলাফল আসার আগে একজন সাংবাদিককে কেন কারাগারে রাখা হবে?’ ওই বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে কর্পোরেট সংস্থা এই ফৌজদারি মামলাটি চালাচ্ছে, সেই সংস্থাও একটি বড় সংবাদ সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার সাংবাদিকরা একই পেশায় কাজ করেন। যদিও বিবৃতিতে সংস্থাটির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে, ডিজিপাব যুক্তি দিয়েছে যে, এই মামলাটি শুধু নায়ারের একার বিষয় নয়, এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। ‘এটি কেবল রবি নায়ারকে নিয়ে নয়। এটি সেই ভীতিকর বার্তা নিয়ে, এই ধরনের একটি মামলা সেই বার্তা, যা শক্তিশালী কর্পোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে তদন্তকারী বা প্রশ্নকারী প্রত্যেক স্বাধীন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও যেতে পারে।’ এতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি এই ধরনের মামলা নিয়মিত হয়ে যায়, তাহলে শক্তিশালী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তকারী যেকোনও সাংবাদিক একই পরিণতির সম্মুখীন হতে পারেন। ‘শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহি করার মূল্য যদি কারাদণ্ড হয়, তাহলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা টিকে থাকতে পারবে না।’

আইন বিষয়ক ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, গুজরাট হাইকোর্ট আদানি গ্রুপের দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় সাংবাদিক রবি নায়ারের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। নায়ার চলতি বছরের শুরুতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তার আপিল বিচারাধীন থাকাকালীন জামিনে মুক্তি পান। আপিল আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এমকে থাকের সেশনস কোর্টের জারি করা পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে নায়ারের করা আবেদনের ওপর তাঁর সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত রাখেন এবং বলেন যে, তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর তার আদেশ ঘোষণা করবেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আদানি এন্টারপ্রাইজেস একটি মানহানির মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে আদানি গ্রুপ সম্পর্কে নায়ারের করা টুইটগুলো বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রকদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির সুনামকে মিথ্যাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নায়ার দাবি করেন যে, তার পোস্টগুলো সর্বজনবিদিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতারই অংশ ছিল।
সৌজন্যে : দ্য নিউজ মিনিট (thenewsminute)

70 Views