ওয়েব ডেস্ক : তালপাতা দিয়ে তৈরি আতশবাজি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। আর এই সত্যির কারণে এবং তালপাতার আতশবাজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় কেরালার নান্নিওডে গ্রাম পরিচিত হয়েছে ‘মিনি শিবকাশি’ নামে। বছরের এই সময়ে বেশ ব্যস্ত থাকে এই গ্রাম। কারণ দিওয়ালির বাজির চাহিদা মেটাতে এখন প্রায় ২০টি আতশবাজির কারখানা দিনরাত কাজ করেন প্রায় দু’শোর বেশি মহিলা। নান্নিওডে ও তার আশেপাশের দু’শোরও বেশি পরিবারের সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী তালপাতার বাজি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই বাজি তৈরিতে শুকনো তালপাতা ত্রিভুজাকারে মুড়ে বারুদের মিশ্রণের চারপাশে জড়ানো হয় এবং একটি ছোট সলতে দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত, দিওয়ালির আগে কেরালার অধিকাংশ আতশবাজি ব্যবসায়ী তামিলনাড়ুর শিবকাশিতে ভিড় জমাতেন। কারণ, শিবকাশিই বাজির জন্য বিখ্যাত। সেখানে দেশের মোট আতশবাজির প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। উৎসবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করতে কেরালার ক্রেতারা ছুটে যেতেন শিবকাশিতে।
তখনই নান্নিওডের শ্রী আর্য ফায়ার ওয়ার্কসের মালিক কে. রামচন্দ্রনের পূর্বপুরুষেরা উপলব্ধি করেন যে, বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন স্থান থাকায় তাদের গ্রামটির একটি আতশবাজির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ৬৪ বছর বয়সী রামচন্দ্রন দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, নান্নিওডে ২০টি আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে কর্মশক্তির অধিকাংশই নারী। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশেষত্ব হলো হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী তালপাতার বাজি। এটি ছোট, মাঝারি এবং বড় আকারে পাওয়া যায় এবং আমাদের মহিলা কর্মীরা এটি মালার আকারেও তৈরি করেন। তাঁরা প্রতিদিন ৫০০ টাকার বেশি আয় করেন, কারণ তাদের বেশিরভাগই ১,০০০-এর বেশি বাজি তৈরি করেন।’ জানা গেছে, গত দিওয়ালিতে রামচন্দ্রনের টার্নওভার ছিল ১ কোটি টাকা। অন্যদিকে রামচন্দ্রনের কারখানার এক কর্মী আর. অনিতা (৫৮) বলেন, সৌভাগ্যের বিষয় যে এখানে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কারণ, আমরা বারুদ ব্যবহারের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকি।’
নান্নিওদের কাছে কুরুপুঝার বাবু ফায়ার ওয়ার্কসের বি. শিজি জানান, এ বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো স্কাইশট, একটি রকেট যা আকাশে বহু রঙের প্রদর্শনী তৈরি করে। আকারের উপর নির্ভর করে এগুলোর দাম ২০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। তিনি বলেন, ময়ূর রঙের বাজি এবং ‘পিঙ্ক ফাউন্টেন’, যা থেকে উজ্জ্বল গোলাপি শিখা ও স্ফুলিঙ্গ বের হয়, সেগুলোরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এগুলোর দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। প্রসঙ্গত, কেরালায় বাজির লাইসেন্স পাওয়া সহজ নয়। ২০০৮ সালের বিস্ফোরক বিধিমালা মেনে চলার পাশাপাশি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স দেওয়ার আগে আবেদনকারীকে স্থানীয় থানা, দমকল বিভাগ এবং তহসিলদারের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ (telegraphindia.com)

