ওয়েব ডেস্ক : মৃত্যুর পর মায়ের কাছেই থাকতে চান বিহারের এক যুবক। মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর অন্যতম স্থায়ী বন্ধন হিসেবে বিবেচিত। তাঁকে হারানো এমন এক শূন্যতা তৈরি করে যা কখনোই পুরোপুরি পূরণ করা যায় না। মাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলা মন থেকে পারেন না অনেকেই। বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বালহা গ্রামের এক যুবকের তেমন অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। এক ব্যক্তি মৃত্যুর পরেও তাঁর মায়ের কাছাকাছি থাকার জন্য একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন। সূত্রের খবর, বড়ৌলি ব্লকের বালহা গ্রামের বাসিন্দা মনজুর হাসান তাঁর প্রয়াত মায়ের সমাধির ঠিক পাশেই নিজের কবর খুঁড়েছেন। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে প্রয়াত তাঁর মা শাহ শাহরবানো হাসনির প্রতি তাঁর গভীর স্নেহ থেকেই এই সিদ্ধান্ত। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মনজুর। তাঁর বাবা মোবারক হুসেন আগেই প্রয়াত হয়েছেন। শৈশব থেকেই মায়ের সঙ্গে মনজুরের এক অসাধারণ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মায়ের উপস্থিতি ছিল তাঁর জন্য সান্ত্বনা ও মানসিক শক্তির উৎস। তিনি বলেন, মায়ের সান্নিধ্যে থাকলেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোও সহজ মনে হতো। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে মায়ের মৃত্যু তাঁর জীবনে এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই ক্ষতি তাঁকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দেয় এবং যে মানুষটি মনজুরের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনার উৎস ছিল, তাঁর অনুপস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খান তিনি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মায়ের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার একটি উপায় অবশেষে খুঁজে পান মনজুর। তিনি মায়ের সমাধি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন এবং ধীরে ধীরে এর যত্ন নেওয়াকে তার দৈনন্দিন কাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলেন। মায়ের মৃত্যুর কয়েক দশক পরেও মনজুর নিয়মিত তাঁর মায়ের সমাধিতে যান। সমাধিস্থলটি পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা এখন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে এবং তাঁর বেশিরভাগ সময় এর পাশেই কাটে। মায়ের প্রতি তাঁর এই অনুরাগ তাঁকে নিজের শেষ বিশ্রামস্থলের প্রস্তুতি নিতেও অনুপ্রাণিত করেছে।মায়ের সমাধির পাশেই একটি কবর খুঁড়েছেন তিনি।ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যে, মৃত্যুর পর তাঁকে যেন মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়। মনজুর তাঁর দাফনের জন্য আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে নিজের কাফন বা সমাধিবস্ত্র কেনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি একটি সবুজ কাফন বেছে নিয়েছেন, যে রঙটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন এবং যা হুসাইনি ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। মনজুর হাসানের সিদ্ধান্তটি কেবল দাফনের ব্যবস্থা সংক্রান্ত নয়, এটি একটি আজীবনের বন্ধন এবং সেই নারীর পাশে থাকার জন্য তাঁর আন্তরিক ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করেছে, যাঁর ভালোবাসা ও উপস্থিতি তাঁর জীবনকে গড়ে তুলেছে। এমনকি শেষ যাত্রার পরেও এই বন্ধন অটুট রাখতে চান মনজুর।
সূত্র : ফ্রি প্রেস জার্নাল (freepressjournal.in)

62 Views