ওয়েব ডেস্ক : দিল্লির যন্তর মন্তরে জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন আজ ১৭ জুলাই শুক্রবার ২০ দিন পূর্ণ করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে তাঁর দাবির কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। এদিকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে অনশন তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন একঝাঁক শিক্ষাবিদ এবং শিল্পী। এক আবেদন পত্রে তাঁরা লিখেছেন, ‘সোনমজি – আমরা আপনার কাছে অনশন ভাঙার আবেদন জানাচ্ছি। এই মর্মান্তিক উপায়ে আপনাকে হারানোটা বড্ড বেশি মূল্যবান।’ নীট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রকের বারবার ব্যর্থতা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার জন্য লাদাখের দাবিকে সরকার উপেক্ষা করার প্রতিবাদে ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। এদিন শিক্ষাবিদ ও শিল্পীদের মধ্যে এই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জী, লেখক অমিতাভ ঘোষ, অরুন্ধতী রায় ও অনিতা দেশাই, চলচ্চিত্র নির্মাতা জোয়া আখতার, মীরা নায়ার, কিরণ রাও, বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে ও পায়েল কাপাদিয়া, অভিনেত্রী নন্দিতা দাস, ফ্রিডা পিন্টো, জিম সারভ, হানি ট্রেহান, সলিল ত্রিপাঠি, আতিশ তাসির, নন্দনা সেন, কঙ্কনা সেন, দেব বেনেগাল, বিশাল ভরদ্বাজ, অঙ্গনা পি. চ্যাটার্জি, রানা দাসগুপ্ত, অমিত চৌধুরী, কানু বেহল এবং মানবাধিকার কর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষাবিদ, চিত্রনাট্যকার ও সাংবাদিক অজিত সাহি, শ্রুতি গাঙ্গুলী, সিদ্ধার্থ দুবে, সাবরিনা ধাওয়ান, টিমি গ্রোভার, কার্তিকী গনসালভেস ও রাঘল বাহল-সহ আরও অনেকে।

তাঁরা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, ‘এই নিবেদিতপ্রাণ নাগরিকের সঙ্গে সরকার যেন আলাপ আলোচনা শুরু করে এবং সোনম ওয়াংচুক যে জনসেবার চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেন, তাকে যেন সম্মান জানানো হয়।’ ওয়াংচুককে উদ্দেশ্য করে তাঁরা তাঁদের আবেদনে বলেছেন যে, তাঁর ত্যাগ ও সাহস বিশ্বজুড়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। উল্লেখ্য, ওয়াংচুকের অনশন এবং তাঁর দাবিগুলোর বিষয়ে একদিকে সরকারের নীরবতা, অন্যদিকে তর স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকারী চিকিৎসকরা উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাস এবং গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচকের অবনতির কথা জানিয়েছেন। এটা এই দীর্ঘ অনশনের পরিণতি সম্পর্কে আশঙ্কা তৈরি করেছে। জানা গেছে, তিনি ৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে ‘আমাদের সম্মিলিত বিবেক’ এবং ‘ভারতের পরিবেশ ও তরুণদের এক মহান রক্ষক ও মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে ওই আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা সরকারকে ‘সোনম ওয়াংচুকের প্রতিনিধিত্ব করা জনসেবার চেতনাকে’ সম্মান জানানোর জন্যও অনুরোধ করেছেন।

ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন গত ২৮ জুন যন্তর মন্তরে শুরু হয়। তার আগে ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভে যোগ দেন তিনি। ওয়াংচুক ঘোষণা করেন যে, সরকার আন্দোলনের দাবিগুলোর জবাব না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। গত ১৫ জুলাই এক্স-এ শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় জনগণকে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে বিপুলসংখ্যায় যোগ দিতে অনুরোধ করেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর অনশন ভাঙার আবেদন না করার জন্যও অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি দুটি কথা বলতে চাই। প্রথমত, আমি অনশন ভাঙলেও কী পরিবর্তন হবে? এবং এর মাধ্যমে কী বার্তা যাবে? সরকার কেবল এই বার্তাই পাবে যে তাদের জবাবদিহি করার কোনও প্রয়োজন নেই। মানুষ প্রতিবাদে বসে, এবং তারপর তারা চাইলেই তা ছেড়ে যেতে পারে না।’

১৬ জুলাই বুধবার দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ওয়াংচুকের দৈনিক চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বলেছে ‘প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান’। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনির দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানির সময় আদালত তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, তাঁর জীবন রক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, ওয়াংচুকের আগে থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছিল এবং বেসরকারি চিকিৎসকেরাও সময়ে সময়ে তাঁকে পরীক্ষা করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, চিকিৎসকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

সূত্র : দ্য ওয়ার (thewire.in)

68 Views