ওয়েব ডেস্ক : শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের পর অবশেষে সোমবার পদক্ষেপ করল সরকার। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে মিছিল করার মধ্যেই সরকারের কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক শীর্ষ মন্ত্রী ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেন যে, বিক্ষোভকারীদের কথা শোনা হয়েছে, কিন্তু তাদের দাবি পূরণের বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। সংসদ ভবনে ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন-সহ মন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিক্ষোভ শেষ হয়ে গেছে।’ ওই মন্ত্রী বলেন, ‘নাড্ডাজির সঙ্গে বৈঠকটি ছিল ছাত্রদের কথা শোনার জন্য… কিন্তু সরকার যে তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করবে, এমন কোনও আশ্বাস আমরা তাদের দিইনি।’ সূত্রের খবর, বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এবং ‘খুবই খারাপ চিত্র তৈরি হওয়ায়’ সরকার বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের এক নেতা বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, বিক্ষোভকারী ছাত্রদের প্রতি সরকারকে অসংবেদনশীল হিসেবে দেখা যেতে পারে না।’

এদিকে, সরকারের অভ্যন্তরীণ চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে ওই মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ‘প্রকৃত ছাত্রছাত্রীরা’ প্রতিবাদ শেষ করে ‘তাদের ক্লাসে ফিরে গেছে’ এবং ‘পরীক্ষার ফলাফলও বেরিয়ে গেছে’, যা গত সপ্তাহে প্রকাশিত NEET-UG ফলাফলের ইঙ্গিত দেয়। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘যারা প্রতিবাদস্থলে রয়ে গেছে, তারাই এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করতে চায়। যারা এখনও প্রতিবাদ করছে, তারা ক্ষমতা চায়।’ এর আগে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার মধ্যেই নাড্ডা সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। এদিন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন সংসদ থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে পৌঁছে যায়। সংসদ ভবনের নিরাপত্তা কর্মীরা ভবন চত্বরের প্রায় সব গেট বন্ধ করে দেয়। তখন শীর্ষ মন্ত্রীরা সংসদ ভবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কার্যালয়ের ভেতরে জড়ো হন। ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘণ্টার পর ঘণ্টা শাহের ঘরের ভেতরে ছিলেন। নাড্ডা, কিরেন রিজিজু এবং পীযূষ গোয়েলের মতো অন্যান্য মন্ত্রীরা পরে সেখানে যোগ দেন। নবীনকেও শাহের কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এদিন নাড্ডা বলেন, বিক্ষোভকারীদের অনুরোধের পরই সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪.৩৭ মিনিটে তিনি এক্স-এ পোস্ট করেন, ‘আজ সকালে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব আসে এবং সকাল ১১.৫০ থেকে আমাদের আলোচনা চলছে।’ নাড্ডা আরও পোস্ট করেন, ‘বৈঠকটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত প্রাথমিক মৌখিক আলোচনা হয় এবং তারা বিকেল ৪টার দিকে আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আমি সমস্ত বিক্ষোভকারীকে তাদের অবস্থান ধর্মঘট শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছি।’

অন্যদিকে, সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস টুইট করে জানান যে, তিনি রাঙ্কার সঙ্গে দুপুর ১২টা থেকে নাড্ডার বাসভবনে ছিলেন। দাস এক্স-এ লিখেছেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ/বরখাস্ত-সহ দাবিগুলো জানানো হয়েছে। মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি যথাযথ স্তরে এটি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীরা বিশ্রাম নেবে না।’ তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, সিজেপির মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি সফদরজং হাসপাতাল থেকে ওয়াংচুকের মুক্তি, যেখানে বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী তাঁকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে। নিট-ইউজি পরীক্ষা পরিচালনায় ত্রুটির জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা এবং নিট-ইউজি পরীক্ষার তথ্য ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। যদিও সরকারি সূত্র বলেছে, এই দাবিগুলোর বিষয়ে কোনও ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে না। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘মন্ত্রী (প্রধান) শিগগিরই পদত্যাগ করবেন বলে মনে হয় না। সবকিছুরই একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। তবে সরকার আত্মহত্যা করা নিট শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। কারণ আমরা কোনও মৃত্যুকেই হালকাভাবে নিতে পারি না।’ তবে, অপর এক মন্ত্রী বলেছেন যে, তাদের দাবিগুলো পূরণের জন্য আমরা কতদূর যেতে পারি, তা দেখতে দলের মধ্যে এবং সরকার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হবে।’

(সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)

99 Views