ওয়েব ডেস্ক : গুজরাটের সুরাটে রহস্যজনক উচ্ছেদ অভিযানে একটি বস্তি এলাকার প্রায় ১০০টি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হলো। পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হলেও এর দায় কেউ না নেওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযানে তাদের কোনও ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে সুরাট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এসএমসি) বা সুরাট পুরসভা এবং কে ওই এলাকায় বুলডোজার চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি। সুরাটের কাটারগাম এলাকার নাসিরনগরে এই উচ্ছেদের ঘটনায় কয়েক ডজন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। কারণ, সুরাট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এসএমসি) জানিয়েছে যে তারা কোনও উচ্ছেদের আদেশ দেয়নি এবং এই উচ্ছেদ অভিযানের জন্য তারা দায়ী নয়।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র বিধায়ক বিনু মোরদিয়া প্রকাশ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এবং পুরসভার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে মোরদিয়া বলেছেন, এনিয়ে পুরসভার আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য হতবাক করার মতো। পুরসভার একটি দল সেখানে গিয়েছিল শুধুমাত্র আইনি সীমানা নির্ধারণ এবং রাস্তার ধারের মাপ নিতে। কোনও উচ্ছেদের আদেশ জারি করা হয়নি, কোনও সরকারি পদক্ষেপ অনুমোদন করা হয়নি এবং পুরসভার নথিপত্রে এই ধরনের কোনও অভিযানের রেকর্ড নেই।’ ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এবং ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই বুলডোজার দিয়ে ওই বস্তির প্রায় ১০০টি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-কে বিনু মোরদিয়া জানান, পুর-কমিশনার এম. নাগরাজনের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন এবং তাকে জানানো হয়েছে যে পুরসভা কোনও উচ্ছেদের অনুমোদন দেয়নি। তিনি বলেন,
‘আমি পুর-কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এসএমসি-র পক্ষ থেকে কোনও ভাঙার আদেশ দেওয়া হয়নি। কারা এই ভাঙার কাজ করেছে, সে বিষয়ে আমি পরিষ্কার জানতে চেয়েছি। যেহেতু এসএমসি ছাড়া আর কারও বাড়ি ভাঙার ক্ষমতা নেই, তাই এটি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ‘ভূতুড়ে উচ্ছেদ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং কোনও সরকারি বিভাগই এই অভিযানের দায় স্বীকার করেনি। পুর-কমিশনার নিশ্চিত করেছেন যে, পুরসভার আধিকারিকরা শুধুমাত্র একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সীমানা নির্ধারণের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।

পুর-কমিশনার নাগরাজন বলেন, ‘সেই সময়ে, অন্য একটি পক্ষ কিছু বাড়িঘর ভেঙে ফেলে। জমিটি একটি বেসরকারি সংস্থার মালিকানাধীন। তারা হয়তো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে। এই উচ্ছেদের ঘটনায় এসএমসি-র কোনও ভূমিকা নেই।’ এসএমসির স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাজন প্যাটেলও পুরসভার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কারা এই উচ্ছেদ চালিয়েছে তা নির্ধারণ করতে আমরা ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের দিয়ে একটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।’ তবে উচ্ছেদের সময় উপস্থিত পুলিশ ও পুরকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর কাছে স্থানীয় বাসিন্দা জাভিদ শাহ অভিযোগ করেছেন যে, বাড়িঘর ভাঙার সময়ও আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যখন জেসিবি-র থাবা ঘরবাড়ি ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল এবং নারী-শিশুরা নিজেদের ঘর বাঁচাতে আর্তনাদ করছিল, তখন উর্দি পরা পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। এই ভাঙচুর যদি বেআইনিই হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ ভাঙার আদেশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি চাইল না কেন?’
সৌজন্যে : দ্য ওয়ার ডট ইন (thewire.in)

59 Views