ওয়েব ডেস্ক : ১৩ বছর ধরে লংভিউ চা বাগানের শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে (পিএফ) টাকা জমা পড়েনি। কয়েক মাস ধরে দৈনিক মজুরিও বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে শ্রমিকদের পাওনা প্রায় ১২ কোটি টাকা। এছাড়া অবসর নেওয়ার তিন-চার বছর পরও ৭৮ জন শ্রমিক এখনও গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাননি। এই দাবিগুলি নিয়ে তিন মাসের বেশি সময় ধরে লংভিউ বাগানে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। বর্তমানে পালা করে পাঁচজন করে শ্রমিক অনশন কর্মসূচি চালাচ্ছেন। আন্দোলনের চাপে গত সপ্তাহে কলকাতা থেকে লংভিউ বাগানের মালিক গোবিন্দ গর্গকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে গত ১লা আগস্ট (শনিবার) লংভিউতে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কার্সিয়াংয়ের বিধায়ক, মহকুমাশাসক, শ্রম দপ্তর এবং পুলিশের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বাগানের কমিউনিটি হলে বৈঠক হয়। শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি বেঞ্চে লংভিউ চা বাগান মামলার শুনানি ছিল। আদালত অবিলম্বে পিএফের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই শ্রমিকদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা সরকারের কাছে জমা দেয় মালিকপক্ষ। শ্রমিকদের বেতন থেকে কাটা বাকি ১ কোটি ৪২ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৩৬ টাকা আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যদিও এবিষয়ে আন্দোলনকারী হিল প্ল্যান্টেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সম্পাদক সুমেন্দ্র তামাং বলেন, প্রশাসন বকেয়া মেটানো নিয়ে কোনও আশ্বাস দেয়নি। ‘প্রশাসন যদি বকেয়া মেটানো নিয়ে কোনও আশ্বাস দিত, তাহলে আমরা আন্দোলন তুলে নিতাম। যে দাবিতে শ্রমিকরা প্রায় ১০০ দিন ধরে আন্দোলন করছেন, সেই বকেয়া মেটানো নিয়ে বৈঠকে কোনও কথা বলা হয়নি। তাই আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না’। তিনি বলেন, ‘পিএফ এবং গ্র্যাচুইটির বকেয়া টাকা নিয়ে স্পষ্ট সরকারি নির্দেশ না-পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা অনশন চালিয়ে যাবেন।’

শ্রমিক নেতা সুমেন্দ্র তামাং আরও বলেন, ‘শ্রমিকরা প্রায় এক দশক ধরে লড়াই করছেন। এতদিন প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। আমরা আংশিক জয় পেয়েছি। এবার আমরা ন্যায়বিচার পাব বলেই আশা করছি।’
উল্লেখ্য, ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানের মোট আয়তন ১,০২০ হেক্টর। বর্তমানে তার অর্ধেকই জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, চা চাষের আওতায় রয়েছে মাত্র ৫০২ হেক্টর জমি। কর্মীর সংখ্যা তের বছর আগে ছিল ১,২৪৪ জন, আজ সেখানে কাজ করছেন মাত্র ৩০০-র কিছু বেশি শ্রমিক।

144 Views