ওয়েব ডেস্ক : গত মাসের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় প্রায় ৬০০ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এই বন্যায় এ পর্যন্ত ১,২৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪,৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধসের কারণে সৃষ্ট এই বন্যা উত্তর ও মধ্য নেপালের শহর ও গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, চিতওয়ানে ৩৫৯টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ২১৮টি, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ২০৮টি, নুয়াকোটে ১৮৫টি, রাসুয়ায় ১৪০টি, গোর্খায় ৭২টি, ধাদিঙে ৬০টি এবং তানাহুতে ৩৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কাঠমান্ডুর দুটি পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,২৮২।

নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমান্ড বিভিন্ন বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪,৭৯৮ জনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে যে রাসুয়ায় প্রায় ২৮০ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী নুয়াকোটে ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই হিসাবটি স্থানীয় শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিট, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। নুয়াকোট শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিটের প্রধান সূর্য বাহাদুর খাত্রী বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা যাচাই করার জন্য কর্মকর্তারা স্কুল প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সঠিক তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে। খাত্রী বলেন, ‘আমরা নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যাচাইকৃত তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রধানদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছি, যদিও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগের কারণে স্কুল প্রধানরা সঠিক সংখ্যা জানাতে হিমশিম খাচ্ছেন। যদিও কয়েকজন নিখোঁজ ছাত্রছাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে, বিভিন্ন স্কুল থেকে নিখোঁজ শিশুদের নতুন নতুন খবর আসছে। আমরা অনুমান করছি যে আমাদের জেলায় অন্তত ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী নিখোঁজ রয়েছে’।

পৌরসভার শিক্ষা ইউনিটের স্কুল পরিদর্শক নবরাজ সাপকোটার মতে, শুধুমাত্র নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা থেকেই প্রায় ২৫০ জন শিশু নিখোঁজ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিছু ক্ষেত্রে, আমরা এমন জীবিত অভিভাবকদের খুঁজে পেয়েছি যারা তাদের সন্তানদের খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার অন্য ক্ষেত্রে, বেঁচে থাকা ছাত্রছাত্রীরা নিখোঁজ অভিভাবকদের খুঁজছে’। বিদুর পৌরসভায় ১৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ১৪২টি কমিউনিটি স্কুল এবং ২৮টি বেসরকারি স্কুল। রাসুয়ায়, স্থানীয় শিক্ষা ইউনিটের প্রধান দুর্গাপ্রসাদ সিলওয়াল বলেছেন যে, যাচাই-বাছাই চলছে। তবে প্রাথমিক রেকর্ড অনুযায়ী জেলা জুড়ে ২৮০ জন ছাত্রছাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। এই দুর্যোগ শিক্ষক এবং অন্যান্য স্কুল কর্মচারীদেরও প্রভাবিত করেছে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসুয়া এবং নুয়াকোট জুড়ে ২২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিখোঁজ রয়েছেন। রাসুয়া থেকে ১৬ জন শিক্ষক নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জন কমিউনিটি স্কুলের এবং একজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া নুয়াকোটে ছয়জন শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন। ধাদিঙ ও গোর্খা থেকে তীর্থযাত্রায় রাসুয়ায় আসা বেশ কয়েকজন শিক্ষকও বন্যায় আটকা পড়েছেন এবং তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও ভাটির দিকের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি যে, নিহতদের মধ্যে কতজন ছাত্র বা শিক্ষক ছিলেন। নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিঙ জুড়ে ২২টি স্কুল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি স্কুল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

সৌজন্যে: ন্যাশনাল হেরাল্ড (nationalherald.com)

61 Views