অভিজিৎ সান্যাল, অশোকনগর

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের চল্লিশ বছর। ৪০ বছর উদযাপনে এই সংগঠন রাজ্যজুড়ে এক অভিযানে সামিল হয়েছে। ‘বিজ্ঞানের আলো, প্রতি ঘরে জ্বালো’ বার্তা দিয়ে রাজ্যজুড়ে বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হচ্ছে নানান প্রতিযোগিতা। উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ, জীবন-জীবিকা, স্বনির্ভরতা বিষয়গুলিকে উপজীব্য করে দেশজুড়ে সারাভারত জনবিজ্ঞান নেটওয়ার্ক ২৩টি রাজ্যের ৪০টি বিজ্ঞান সংগঠনকে একত্রিত করে ‘ভবিষ্যৎ ভারত আমরা চাই সুন্দর আগামী কাল’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সেই কর্মসূচির এক সর্ববৃহৎ অংশীদার পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। প্রসঙ্গত, অতীতে যেসব মানুষ বিজ্ঞান চেতনা প্রসারে অবদান রেখে গেছেন, তাঁদের ভাবনাকে রাজ্য ও দেশের বুকে প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ২৯ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মের ১২৫তম বছরে মৌলালি যুব কেন্দ্রে একটি কনভেনশনের মাধ্যমে তৈরী হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ’। এই চল্লিশ বছর ধরে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে প্রতিটি জেলা, ব্লক, পৌরসভা, পঞ্চায়েত স্তরে প্রসারিত হয়েছে এই সংগঠন।

বিগত চার দশকে বিভিন্ন ধারায় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজ্ঞান মঞ্চ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অন্ধ বিশ্বাস, কুসংস্কার, বুজরুকি, তথাকথিত অলৌকিক ঘটনায় তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও যুক্তিবাদী প্রদর্শনী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র‍্য নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন গড়ে তোলা, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ, প্রকৃতি ও আকাশ পর্যবেক্ষণ, ‘রান্নাঘরে বিজ্ঞান’, গদ্যে ভেজাল সনাক্তকরণ, হাতে-কলমে ও কম খরচে বিজ্ঞানের নানা পরীক্ষা করে ছাত্রছাত্রীদের দেখানো, শিশু বিজ্ঞান উৎসব ও বিজ্ঞান মেলার মতো জনপ্রিয় কর্মসূচি এই সময়কাল ধরে রূপায়িত করেছে।

তবুও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ মনে করে যে, বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান কর্মীদের সেই স্বপ্ন পুরণ হয়নি। সেই স্বপ্ন সফল করতে হবে তাদেরই। লক্ষ্য কঠিন হলেও বর্তমান সময়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের মনটুকু উজাড় করে বিজ্ঞান মনস্ক ও পরিবেশ সচেতন সুন্দর এক সমাজ গড়ে তুলতেই হবে। চল্লিশ বছরে রাজ্যবাসী ও দেশবাসীর কাছে এই সংগঠন পৌঁছে দিতে চায় এক বার্তা, ‘বিজ্ঞানের আলো, প্রতি ঘরে জ্বালো’। সেই লক্ষ্যে বিজ্ঞান মঞ্চ রাজ্যজুড়ে সংগঠিত করছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। কেন্দ্র, জেলা, রাজ্য এই তিনটি স্তরে প্রতিযোগিতা সংগঠিত করছে তারা।

ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান মঞ্চের অশোকনগর কেন্দ্র, অক্ষয় কুমার দত্ত বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্রের উদ্যোগে কল্যাণগড় বিদ্যামন্দির হাইস্কুল (উচ্চমাধ্যমিক)-এ গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দিনভর আয়োজিত হয়েছে বিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। অক্ষয় কুমার দত্ত বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক প্রদ্যুৎ কর্মকার জানান, তাৎক্ষনিক বক্তৃতা, বিজ্ঞান মডেল প্রদর্শনী, বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, বসে আঁকো, বিজ্ঞানের খবর পাঠ, সঙ্গীত, পোস্টার অঙ্কন, প্রবন্ধ রচনা, প্রশ্নোত্তর (কুইজ) প্রতিযোগিতা-সহ মোট ৯ রকম বিষয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রায় ২০টি স্কুলের মোট ৩৮৪ জন ছাত্রছাত্রী ( প্রতিযোগী ) অংশগ্রহণ করেছে। কল্যাণগড় বিদ্যামন্দির হাইস্কুলের ৭/৮ জন শিক্ষক প্রায় সম্পূর্ণ সময় সহায়তা করেছেন। উল্লেখ্য, সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের তাৎক্ষনিক বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের সম্পর্কিত নানা বিষয়’। সঙ্গীত প্রতিযোগিতার জন্য তিন রকমের গান নির্দিষ্ট করা ছিল – দেশাত্মবোধক, জনবিজ্ঞানের গান এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত (প্রকৃতি পর্যায়)। প্রবন্ধ লেখার নির্ধারিত বিষয় ছিল – ‘ক’ বিভাগের জন্য ‘আমার প্রিয় বিজ্ঞানী’ , ‘ খ ‘ বিভাগের জন্য ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর আমাদের জীবন’, ‘ গ ‘ বিভাগের জন্য ‘পরিবেশ ও উন্নয়নের গতিপথ’। জানা গেছে, আকর্ষণীয় বিজ্ঞানের খবর পাঠ আর তাৎক্ষনিক বক্তৃতা বিভাগে সফল ছাত্রছাত্রীরা হলো রৌনক বিশ্বাস, অঙ্কিতা রায়, দীপাঞ্জন রায় এবং দেবার্ঘ্য বিশ্বাস।

105 Views