আশিস কুমার ঘোষ, কলকাতা

সঙ্গীত ও ধ্যানের এক অপূর্ব মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল কলকাতা। ৯ আগস্ট রবিবার আনন্দপুরের হার্টফুলনেস আশ্রমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে একদিকে ছিল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আবেগঘন পরিবেশনা, অন্যদিকে ছিল হার্টফুলনেস ধ্যানের শান্ত ও অন্তর্মুখী অনুশীলন। সঙ্গীতের সুর এবং ধ্যানের প্রশান্তি মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক মন ছুঁয়ে যাওয়া পরিবেশ। অনুষ্ঠানে বাঁশিতে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেয় শিশুশিল্পী অনির্বাণ রায় এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী মৈত্রেয়ী রায়। তাঁদের সুরেলা পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মনে শান্তি ও এক ধরনের গভীর আত্মিক অনুভূতি তৈরি করে।
সবার জন্য উন্মুক্ত এই বিনামূল্যের অনুষ্ঠানে কোনও পূর্বনির্ধারিত আমন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল না। তরুণ-তরুণী, পড়ুয়া, কর্পোরেট পেশাজীবী-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের কিছুটা সময় থেকে বেরিয়ে এসে সঙ্গীতের মাধ্যমে নিজের সঙ্গে নিজের নতুন করে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পান তাঁরা।
হার্টফুলনেসের গাইড এবং শ্রীরামচন্দ্র মিশনের প্রেসিডেন্ট দাজি বলেন, ‘শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন আমাদের শরীরচর্চার প্রয়োজন, তেমনই আত্মিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ধ্যান। সঙ্গীতের, বিশেষ করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গেও আত্মিকতার গভীর যোগ রয়েছে। বিভিন্ন রাগের মধ্যে আমাদের শরীর ও মনকে সুস্থ করে তোলার ক্ষমতা রয়েছে। আর যখন সঙ্গীত ও ধ্যান একসঙ্গে আসে, তখন তার উপকার আরও গভীর হয়।’

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী মৈত্রেয়ী রায় বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় দাজির সান্নিধ্যে এবং তাঁর নির্দেশনায় যাঁরা আন্তরিকভাবে আত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছেন, এমন শ্রোতাদের সামনে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। তাঁরা সঙ্গীতের আধ্যাত্মিক দিকটিকেও অনুভব করতে প্রস্তুত—এটি আমার জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা।’
শিশুশিল্পী ও বাঁশিবাদক অনির্বাণ রায় বলেন, ‘আমাদের মতো শিল্পীদের জন্য এটি একটি সুন্দর সুযোগ। একদিকে হার্টফুলনেস ধ্যানের অংশ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি, অন্যদিকে একই সময়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করতে পারছি এমন একটি সুন্দর শ্রোতৃমণ্ডলীর সামনে।’
এই অনুষ্ঠানের মূল ভাবনার কেন্দ্রে ছিল হার্টফুলনেসের সহজ অথচ গভীর ধ্যানের পদ্ধতি। এই অনুশীলন মানুষকে নিজের ভেতরের দিকে তাকাতে এবং হৃদয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করতে উৎসাহিত করে। শিথিলতা ও ধ্যানের মাধ্যমে মনকে শান্ত করা, আবেগের মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং জীবনে আরও গভীর প্রশান্তি তৈরি করাই এই অনুশীলনের অন্যতম লক্ষ্য। সঙ্গীতের আবেগ এবং ধ্যানের প্রশান্তির এই মিলন উপস্থিত সকলের জন্য তৈরি করেছিল আত্মানুসন্ধান, শান্তি ও অন্তরের সঙ্গে সংযোগের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

87 Views