অমর চক্রবর্তী, অশোকনগর
অভাবী পড়ুয়ার পাশে দাঁড়ালেন কাউন্সিলার সঞ্জয় রাহা। উৎসবের প্রাক্কালে আলোকিত হয়ে উঠল অশোকনগর হরিপুর এলাকা। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অভাবী এক কিশোরী জানিয়েছিল তার জীবন যুদ্ধের কথা। সে স্কুলে গিয়েই শুধু ভাত খেতে পারে। বাড়িতে ভাতের ব্যবস্থা নেই। তার সেই জীবন যুদ্ধের কথা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভাবী কিশোরীর এই অবস্থা জানতে পেরে হাবরা অশোকনগরের অনেকেরই খারাপ লাগে। কেঁদে ওঠে মন। ওই কিশোরীর এমন পরিস্থিতির খবরে মন খারাপ হয় অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা অশোকনগর আইএনটিটিইউসির সভাপতি সঞ্জয় রাহার। অভাবী মেয়েটি যে তার ছেলের থেকে মাত্র কয়েকটা বছরের বড় হবে! ছেলেকে যদি সুন্দরভাবে লালন পালন করতে পারেন, ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন, তবে কেন এই অভাগী কিশোরীর ভাগ্যে তা জুটবে না!
এই ভাবনা থেকেই সঞ্জয় রাহা শারদীয় দুর্গোৎসবের পঞ্চমীর দিনে ছুটে যান হরিপুর পোস্ট অফিস সংলগ্ন মেয়েটির বাড়িতে। নাহ! খালি হাতে যাননি। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন চাল এবং নতুন পোশাক আর এক বুক ভালোবাসা। পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে সঞ্জয় জানান, এই কিশোরীর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ তিনি বহন করবেন। সঞ্জয়ের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলার সজলকান্তি মালাকার, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মৃন্ময় ব্যানার্জি আর সঞ্জয়ের টোটোচালক ভাইয়েরা। স্থানীয় কাউন্সিলার সজল মালাকার ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মৃন্ময় ব্যানার্জি আগেই ভগ্ন এই বাড়িতে ওই কিশোরীদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ফাটা টিনের উপরে জল আটকাতে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন ত্রিপল। পুজোর পরেই তাদের থাকার ব্যবস্থা আর একটু সুগম করা হবে এমনটাই তাঁর ভাবনায় ছিল। কিন্তু তার আগেই সমাজমাধ্যমে দুঃখের ঝড় তাদের ছুটিয়ে নিয়ে এলো হরিপুরে। আর সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রদীপের নিচের অন্ধকার আপাতত দূর হলো। এত কিছুর পরে শারদ উৎসবের হাজার ওয়াটের আলোয় তখন যেন জ্বলজ্বল করে উঠছিল ছোট্ট মেয়েটির মুখ। কিশোরী জানিয়েছে, সে পড়াশোনা করতে চায়। বাবা মারা গেছেন। মা আর অসুস্থ বৃদ্ধ জেঠুকে ভালো রাখতে চায় সে। সঞ্জয়বাবুর এই কাজের প্রশংসা করেছেন হাবরা অশোকনগরের বহু মানুষ।


