আশিস কুমার ঘোষ, স্বরূপনগর
ডাক্তার তপন কুমার সাহা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসক। দীর্ঘদিন তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটে চেস্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বহু নামিদামি ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য পেয়েছেন। ডানলপের বাসিন্দা তপনবাবু চিকিৎসা জীবনে অবসরের পর এখনও বহু দুস্থ মানুষকে নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দেন। তপনবাবুর শৈশব চরম দারিদ্র্যে কেটেছে। অর্থনৈতিক নানা অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি কৃতি ছাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। তার ছোটবেলা কেটেছে উত্তর ২৪ পরগনার প্রান্তিক এলাকা স্বরূপনগর ব্লকে। এখানকার মালঙ্গপাড়া কেবিসি ইনস্টিটিউট-এর প্রাক্তন কৃতি ছাত্র তিনি। অবসরের পর তিনি স্থির করেন গ্রামের দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন। তাঁর আক্ষেপ, নিজের ভাবনার কথা তাঁর স্কুল কেবিসি ইনস্টিটিউটের বর্তমান কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাদের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাননি।
অবশেষে কাটিয়াহাট হাইস্কুলের দ্বারস্থ হন তিনি। এই স্কুলে তিনি মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপর তিনি নিতান্তই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর স্বর্গীয় পিতা তারাপদ সাহা ও মাতা রাধারানী সাহার স্মৃতিতে স্কলারশিপ চালু করেন। গত ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছর বিদ্যালয় থেকে বাছাই করা কৃতি অথচ দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকা অনুযায়ী ১০ জন পড়ুয়াকে এই উৎসাহ পুরস্কার দেওয়া হয়। সম্প্রতি তপনবাবুর গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানী ড. বিমল রায়। তপনবাবুর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। এদিন তিনি জানান, দারিদ্র্য যেন মেধাবিকাশের অন্তরায় না হয় সেটা দেখার জন্য সকল সমাজমনস্ক মানুষের এগিয়ে আসা কর্তব্য।


