আশিস কুমার ঘোষ, কলকাতা

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী মহাধমনী (Aorta)–কে একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, এর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাল চিকিৎসক মহল। কলকাতার মুকুন্দপুরে অবস্থিত নারায়ণা আরএন টেগোর হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, পূর্ব ভারতে জটিল ও অতিজটিল মহাধমনী রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মহাধমনী শরীরের সবচেয়ে বড় ধমনী, যা হৃদয় থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, মহাধমনীজনিত রোগ যেমন অ্যানিউরিজম, ডিসেকশন ও জটিল আর্চ ও থোরাকো-অ্যাবডোমিনাল রোগের চিকিৎসায় বিশেষায়িত সার্জারি, উন্নত ইমেজিং ও সমন্বিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা অপরিহার্য। লক্ষণ অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ মহাধমনী রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ভুলভাবে হৃদরোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
নারায়ণা আরএন টেগোর হাসপাতাল জানিয়েছে, ওড়িশা, মিজোরাম, মণিপুর-সহ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও এমনকি ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকেও রোগীরা উন্নত মহাধমনী চিকিৎসার জন্য এখানে আসছেন। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র মহাধমনীজনিত সমস্যায় প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, ফলে দ্রুত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গত বুধবার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. অতনু সাহা বলেন, ‘মহাধমনী রোগ অনেক সময় নীরব থাকে বা ভুলভাবে বোঝা হয়। বুকে ব্যথা নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত সিটি স্ক্যান ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করলে হার্ট অ্যাটাক ও মহাধমনী রোগের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসায় দেরি করা মারাত্মক হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, যদিও এই রোগ সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে বর্তমানে ৩০–৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জন্মগত মহাধমনী ভালভের ত্রুটি, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান এবং গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে, ইন্টারভেনশনাল ও এন্ডোভাসকুলার রেডিওলজির ডিরেক্টর ডা. শুভ্র এইচ. রায় চৌধুরী বলেন, ‘জটিল মহাধমনী রোগের চিকিৎসায় সার্জন, ভাসকুলার বিশেষজ্ঞ, ইন্টারভেনশনাল টিম ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। উন্নত সিটি ইমেজিং, ক্যাথ ল্যাব ও ওপেন সার্জারির সুবিধার মাধ্যমে আমরা দ্রুত ও নির্ভুল চিকিৎসা নিশ্চিত করছি।’

96 Views