আশিস কুমার ঘোষ, কলকাতা

নবজাতক পরিচর্যার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চুনাভাটির নারায়ণ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। মাত্র ২৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় জন্ম নেওয়া, মাত্র ৭৬০ গ্রাম ওজনের এক অপরিণত কন্যাশিশুর জীবন রক্ষা করলেন তাঁরা।
চুনাভাটির নারায়ণ হাসপাতাল সূত্রে খবর, জন্মগ্রহণ করার পরই নবজাতকটি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় ছিল। কারণ, তার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং যান্ত্রিক ভেন্টিলেশনেরও প্রয়োজন হয়। কনসালটেন্ট – পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগের ডাঃ অখিলেশ্বর নারায়ণ চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকা নবজাতক পরিচর্যা দলের কাছে এত কম ওজনের একটি শিশুর জীবন রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শিশুটিকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (NICU) সব সময়ের জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির পেট ফুলে যায় এবং সবুজ বমি শুরু হয়। এটি একটি গুরুতর অভ্যন্তরীণ সমস্যার লক্ষ্মণ। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অন্ত্রে একটি ব্লকেজ ধরা পড়ে। এই ব্লকেজ অপরিণত শিশুদের জন্য, বিশেষ করে যাদের ওজন এক কিলোগ্রামের কম, তাদের জীবন বিপন্ন করে তোলে।
শিশুর অবস্থা এবং অস্ত্রোপচারের জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে বাবা-মাকে বিস্তারিতভাবে পরামর্শ দেওয়া হয় এবং এরপর দ্রুত একটি বহু-বিভাগীয় অস্ত্রোপচার দল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন কনসালটেন্ট – পেডিয়াট্রিক ও নিওনেটাল সার্জারি বিভাগের ডাঃ গৌতম চক্রবর্তী। তাঁকে সহায়তা করেন ডাঃ রশ্মি শাহী (সিনিয়র কনসালটেন্ট – অ্যানেস্থেসিওলজি) এবং ডাঃ রুচি (কনসালটেন্ট – অ্যানেস্থেসিয়া)। বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে পরম যত্নে চিকিৎসকরা
সফল অস্ত্রোপচার করলেও শিশুটির সেপসিস, শ্বাসকষ্ট, প্রোটিনের মাত্রা কম থাকা এবং চোখের জটিল সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা এবং অবিরাম পর্যবেক্ষণের পর, সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়, সুস্থ হয়ে ওঠে এবং স্থিতিশীল অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

83 Views