অমর চক্রবর্তী, হাবড়া
গ্রামীণ ডাক্তার বা পল্লী চিকিৎসক শুনলেই অনেকেই ভুরু কুঁচকান, তাঁদের পাত্তা দিতে চান না। অথচ এখন পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষজনকে দিনরাত পরিষেবা দিচ্ছেন এই ধরনের দু’লাখ সত্তর হাজার চিকিৎসক। যেখানে এমবিবিএস ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা পৌঁছোতে পারেন না, সেখানে হাজির হয়ে যান এই গ্রামীণ চিকিৎসকেরা। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের মেলেনি কোনও রকম সরকারি স্বীকৃতি। উল্টে প্রশাসন বা মানুষের দ্বারা বিভিন্ন রকম ভাবে তাঁদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। শনিবার হাবরার কলতান প্রেক্ষাগৃহে গ্রামীণ ডাক্তার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগই করলেন গ্রামীণ চিকিৎসকরা। এদিন তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের স্বীকৃতির কথা বললেও কাগজে-কলমে তা এখনও হয়ে ওঠেনি। যার ফলে আগামী বিধানসভা ভোটের আগে স্বাস্থ্য দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন তাঁরা। পাশাপাশি অভিযোগ, এসআইআর এর ফলেও তাঁদের বিভিন্ন রকম ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং বারবার শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে।
এদিন গ্রামীণ চিকিৎসকেরা জানান, শুনানি কেন্দ্রে বারবার যাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামীণ অঞ্চলের বহ অসুস্থ মানুষ। এই সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা যেন সকলেই পেশা কলমে গ্রামীণ ডক্টর লেখেন। গ্রামীণ চিকিৎসকরা আরও জানান, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্বীকৃতির জন্য আন্দোলনকে জোরদার করা হবে। এছাড়াও তাঁরা জানান, হাবরার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছেও বারবার দরবার করছেন তাঁরা। তবে তাঁরা স্বীকার করেন যে, হাবরা হাসপাতালের সুপার, বিএমওএইচ, পুরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, হাবরার আইসি অনুপম চক্রবর্তী তাদের বিভিন্ন রকম ভাবে সহায়তা করেন। সবমিলিয়ে দিনরাত এক করে গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা দেওয়া এই গ্রামীণ ডাক্তাররা ভালো নেই বলে অভিযোগ করেছেন।


