ওয়েব ডেস্ক : নথিপত্র থাকার পরও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গুমা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ছোট বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সড়ক (যশোর রোড) অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন তাঁরা। এই অবরোধের জেরে বিপাকে পড়লেন যশোর রোডের নিত্যযাত্রীরা। গুমা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪১ নম্বর পার্ট-এ তিন শতাধিক ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় ডিলিটেড এসেছে। সে কারণেই তাঁরা প্রতিবাদে সকাল থেকেই রাস্তা অবরোধ করে গুমা জোড়া ব্রিজের কাছে। দীর্ঘ সময় অবরোধের জেরে রাস্তায় আটকে যায় বারাসাত এবং বনগাঁগামী বিভিন্ন বাস, ট্রাক-সহ পণ্যবাহী অন্যান্য গাড়ি। যাদের নাম বাদ গেছে সেই সব গ্রামবাসী রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষুব্ধ মানুষজনের অনেকেরই দাবি, কয়েক পুরুষ ধরে এই গ্রামে বসবাস করছেন তাঁরা। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে অশোকনগর থানার পুলিশ। আসে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ থাকার পর অবরোধকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৫০০ থেকে ৬০০ বছরের প্রাচীন এই জনপদ গুমা ছোট বামুনিয়ায় মূলত সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মনির গাজীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে। সে কারণেই দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এমনকি স্বাধীনতার আগে থেকে এলাকায় বসবাস করা বাসিন্দাদের সমস্ত ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও, ন্যায্য ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি ভোটের। তার আগে চক্রান্ত করে এসব করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও বড়োসড়ো আন্দোলনের হুমকি এমনকি যশোর রোড কেটে ফেলার হুমকি এদিন দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ভূপতি বাগচী সাফ জানান, যারা অবরোধ করেছেন, তাদের ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নাম তোলার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তাঁরা সেটা না করে কোনও এক তৃণমূল নেতার উৎসাহে এসব কান্ড ঘটাচ্ছে। এতে কোনও লাভ হবে না। পাশাপাশি ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের কাজকে তিনি সাধুবাদ জানান।

142 Views