ওয়েব ডেস্ক : পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) যে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তার সমর্থনে রবিবার যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সঙ্গে এই অনশনে যোগ দিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA)-র ছয়জন সদস্য।
এর আগে ৬ই জুন যন্তর মন্তরে আয়োজিত সিজেপি (CJP)-র প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও ওয়াংচুক অংশ নিয়েছিলেন। রবিবার অনশন শুরুর আগে ওয়াংচুক সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকের সাথে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে এখানে বসতে বাধ্য করা হয়েছে, আমি আনন্দের সঙ্গে এটা করছি না। আমি শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা জবাবদিহিতা এবং লাদাখের জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবি পূরণ এই দুটি বিষয়ের সমর্থনে অনশনে বসেছি। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তো লাদাখে আন্দোলন করছিলেন, এখন কেন সিজেপি-র সাথে আছেন? শিক্ষা—যা এখানে মূল বিষয়—তা গত ৪০ বছর ধরে, অর্থাৎ আমার ছাত্রজীবন থেকেই আমার হৃদয়ের খুব কাছের বিষয়।’ ওয়াংচুক আরও বলেন, ‘আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি, কিন্তু কখনও চাকরি করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে সব প্রজন্মের উন্নতির চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। যখন কিছু তরুণ শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হয়, তখন আমি কীভাবে চুপ থাকতে পারি? তাদের সমর্থন করাটা আমার কাছে স্বাভাবিকই ছিল।’ তিনি বলেন, ‘যখন কোনো জবাবদিহিতা থাকে না, তখন গণতন্ত্রে একমাত্র সম্ভব পথটিই আমাদের বেছে নেওয়া—আর তা হলো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। আমরা তাই করব।’ তিনি মানুষকে অন্তত একদিনের জন্য উপবাস পালন করে এই কর্মসূচিকে একটি গণ-অনশনে পরিণত করার আহ্বানও জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনও নেতা যখন নিজের ভুল স্বীকার করেন, তখন তাঁর মর্যাদা কমে বা বাড়ে না। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (নেতারা) মহান হয়ে ওঠেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরকারকে বলতে চাই যে, আপনারা যদি গণতন্ত্রের নেতা হন, তবে আপনাদের দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জবাবদিহিতা থাকতেই হবে এবং কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতেই হবে।’
এর আগে ওয়াংচুক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা এবং লাদাখের জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবি পূরণে সরকার পদক্ষেপ না নিলে তিনি ২৮ জুন যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবেন। ‘একটি বিষয় হলো শিক্ষা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র উত্থাপিত দাবি। আপনারা জানেন, দুটি বিষয় আমার হৃদয়ের খুব কাছের, শিক্ষা এবং পরিবেশ। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা জবাবদিহিতা দাবি করছি, আর লাদাখের ক্ষেত্রে সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা একই রকম জবাবদিহিতা চাইছি।’ ওই ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেছিলেন যে, তিনি এই দুটি বিষয়ের কোনও একটির ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য ২৭ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার অথবা লাদাখে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বহাল—এই দাবিগুলোর মধ্যে একটিও যদি পূরণ করা হয়, তবে তিনি অনশন কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন। অন্যথায়, তিনি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেবেন এবং ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবেন বলে জানিয়েছিলেন।
এদিকে, রবিবার যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র বিক্ষোভ নবম দিনে গড়াল। অথচ দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়েছিল যে, ওই সংগঠনটিকে কেবল ২০ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

115 Views