ওয়েব ডেক্স : আসাম পুলিশ কর্তৃক মানবাধিকার কর্মী প্রনব দোলে এবং আদিত্য রাভার বেআইনি গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এই দুই কর্মীর গ্রেফতারকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। প্রণব দোলের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা করেছে সারা ভারত কিসান সভা, ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি ও অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন-সহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদরাও তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। অভিযোগ, ভূমি অধিকার রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্রণব দোলেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১২ জুলাই ভোরবেলা গুয়াহাটিতে পুলিশ বিনা-নোটিশে তাঁকে গ্রেফতার করে। একইভাবে পলাশবাড়ির রাভা হাসং ট্রাইবাল বেল্টের ভূমি অধিকার আন্দোলনের নেতা আদিত্য রাভাকেও ৯ জুলাই পুলিশ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে।
উল্লেখ্য, কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কের কাছে ইংলে পাথারে প্রস্তাবিত হায়াত লাক্সারি পাঁচতারা হোটেলের বিরুদ্ধে যে গণ-আন্দোলন চলছে, প্রণব দোলে ও আদিত্য রাভা তার নেতৃত্বে রয়েছেন।
প্রণব দোলে ২০২১ সালে আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বোকাখাট কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর প্রাক্তন ছাত্র তিনি। ২০২৩ সালে জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের একটি আলোচনাসভায় ভারতের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই অঞ্চলে হোটেল তৈরি হলে কাজিরাঙ্গার জীববৈচিত্র্য এবং আদিবাসীদের জীবিকাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কাজিরাঙ্গার আদিবাসীরা জমি রক্ষার জন্য লড়াই করছেন এবং বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ভূমি অধিকার রক্ষা কমিটি। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রনব দোলে ও আদিত্য রাভা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করে আসছেন। তাই তাঁদের কণ্ঠরোধ করার জন্যই পুলিশ প্রশাসন এই ধরণের দমনমূলক নীতি গ্রহণ করেছে। সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, আসাম এখন বড় বড় কর্পোরেট সংস্থা দ্বারা শাসিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি জানিয়েছে যে, এই বেআইনি গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজধানী-সহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হবে এবং তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

