ওয়েব ডেস্ক : আজ মঙ্গলবার। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র অবস্থান বিক্ষোভ আজ ২৫ দিনে পড়ল। গতকাল অর্থাৎ সোমবার সিজিপি জানিয়েছে যে, অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরুর পর থেকে শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের ওজন ৮.২ কেজি কমেছে এবং তাঁর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে ৬৭ মিগ্রা/ডেসিলিটারে নেমে এসেছে। কেন্দ্রের কাছে বিক্ষোভকারীদের দাবি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে। কারণ, অনশনরত মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে। এদিন ওয়াংচুকের অনশনের ১৬তম দিনে তাঁর স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হয়েছে। সিজেপি-র দেওয়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াংচুকের রক্তচাপ ১০৭/৭০ মিমি এইচজি রেকর্ড করা হয়েছে। অনশন শুরুর পর থেকে তাঁর মোট ওজন ৮.২ কেজি কমেছে। নীট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভের এদিন ছিল ২৪তম দিন। এদিন অভিজিৎ ডিপকে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, এই বিষয়টিকে যেন ‘অহংয়ের লড়াই’-এ পরিণত না করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হয়। এক্স (X)-এ এক পোস্টে ডিপকে বলেন, ‘ওয়াংচুকের অনশনের ১৬তম দিন। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি বিষয়টিকে যেন অহংয়ের লড়াইয়ে পরিণত না করা হয়, কারণ এখানে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এটি পরিপক্কতা, দায়বদ্ধতা এবং ভুল সংশোধনের সদিচ্ছার লক্ষণ। আমরা কেবল দায়বদ্ধতা দাবি করছি।’ সিজেপি সূত্রে খবর, এদিন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশীর নেতৃত্বে আম আদমি পার্টির (আপ) একটি প্রতিনিধি দল বিক্ষোভস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

সিপিআই(এম)-এর সাংসদ অমরা রাম, অন্ধ্রপ্রদেশ ও রাজস্থানের প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া, আগামী ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত প্রস্তাবিত শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার প্রতিও ওই নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন। এদিন আপ-এর প্রতিনিধিদল এই আন্দোলনের প্রতি ফের তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন-এর সহযোগী সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সদস্য—নেহা, মণীশ, দীপক ও আমিন—প্রতিবাদস্থলে একটি পৃথক মঞ্চে তাঁদের অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এক বিবৃতিতে আইসা জানিয়েছে যে, অতিশী অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকারের কাছ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে, তবে তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়ে যেসব শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ২০ জুলাই অর্থাৎ সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন সংসদ ভবন অভিমুখে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, সিজেপি-র এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ২০ জুন শুরু হয়। অন্যদিকে, ওয়াংচুক ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং তখন থেকেই তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন করছেন।

সূত্র : দ্য ইকনমিক টাইমস (m.economictimes.com)

66 Views