ওয়েব ডেস্ক : পুলিশি বর্বরতার ভিডিও দেখার সময় আদালতের নেই। বললেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।
উল্লেখ্য, এর আগে তিনি যুবকদের একটি অংশকে ‘আরশোলা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যে মন্তব্যের কারণে এরপরই ছাত্র-যুবদের একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। এই সংগঠনের নেতৃত্বে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বেশ কয়েকজন। সেখানে যোগ দেন শিক্ষাবিদ-জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এই আন্দোলনকে সমর্থন জানায়। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে সামিল হয় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা এআইএসএ ও পরে বামপন্থী একাধিক সংগঠন। ২০ জুলাই ছাত্র-যুবদের প্রবল আন্দোলন আছড়ে পড়ে সংসদের দোরগোড়ায়। ওইদিন সংসদ অভিমুখে তরুণ প্রজন্মের শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর বর্বরোচিত আক্রমণ নামায় দিল্লি পুলিশ। বুধবার দিল্লি পুলিশের এই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে একটি আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানির অনুমতি দিতে সুপ্রিম কোর্ট অস্বীকার করলে আইনজীবী পুলিশের বলপ্রয়োগের ভিডিওর কথা বলেন। তখন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ‘ভিডিওতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই; আমাদের দেখার সময় নেই’।

প্রধান বিচারপতি বলেন যে, ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের বর্বরতার ভিডিও দেখতে তিনি আগ্রহী নন এবং একজন আবেদনকারীকে আদালতের সময় নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ করেন। প্রসঙ্গত, ওই আইনজীবীর আবেদনে সংসদ অভিমুখে মিছিলে প্রধানত তরুণ প্রতিবাদী জনতার উপর দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে প্রায় মাসব্যাপী বিক্ষোভ চলার পর প্রায় ৭৫,০০০ মানুষের অংশগ্রহণে এই মিছিল হয়। সিজেপি তাদের নাম ও অনুপ্রেরণা নিয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের গত মে মাসের একটি মন্তব্য থেকে। যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আরশোলার মতো কিছু তরুণ আছে, যারা কোনও চাকরি পায় না এবং পেশাতেও তাদের কোনও জায়গা নেই।’ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন ধর্মঘট পালন করে। ওয়াংচুকের অনশন এখনও চলছে এবং এটি ২৫তম দিনে পড়েছে। ২০ জুলাই সিজেপির সংসদ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয়, যেখানে পেলেট গান এবং পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। যদিও পুলিশ উভয় অভিযোগই অস্বীকার করেছে। পুলিশের এই অভিযানে বেশ কয়েকজন আহত হয়। যদিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ওপর বেপরোয়া হামলা এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের চিত্র দেখা গেছে।

সূত্রের খবর, একাধিক প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী গুরুতর আহত, অনেকেই চিকিৎসাধীন। অনেকেরই জীবন সংশয়ের খবর রয়েছে বলে খবর। ঠিক সেই সময় এদিন আবেদনকারী আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না, এবং আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না।’ লাইভ ল রিপোর্ট করেছে যে, যখন আইনজীবী বলেন যে ছাত্রছাত্রীরা নিট (NEET) পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিচালনা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিতে (National Testing Agency) সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করছে, তখন প্রধান বিচারপতি আইনজীবীকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’ যখন আইনজীবী পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও রয়েছে উল্লেখ করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিওতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই, আমাদের দেখার সময় নেই।’ উল্লেখ্য, একদিন আগে যখন একজন আবেদনকারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ করেন, তখন প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় বলেন, ‘আদালতকে এসবের মধ্যে জড়াবেন না।’ একজন প্রধান বিচারপতির পক্ষে এটা বলা অস্বাভাবিক যে, নাগরিকদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও দেখার মতো সময় আদালতের হাতে নেই; বিশেষ করে ভারতের মতো বিচার ব্যবস্থায়, যেখানে মামলার রায় আসতে প্রায়শই অনেক সময় লাগে। উদাহরণস্বরূপ, এই মাসের শুরুতে স্বয়ং প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট’ অনুষ্ঠানে কৌতুক অভিনেতা সময় রায়না ও অন্যদের করা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আপত্তিকর কৌতুকের একটি ভিডিও থেকে উদ্ভূত একটি মামলার শুনানি করেছে।

সৌজন্যে : দ্য ওয়ার (thewire.in)

107 Views