ওয়েব ডেস্ক : স্কুলে যাওয়ার জন্য একটি পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করল প্রায় ২০০ স্কুল-পড়ুয়া। মঙ্গলবার এমন মিছিল হয় উত্তরপ্রদেশের চান্দুপুর গ্রামে। ওই মিছিলে পড়ুয়াদের সঙ্গে পা মেলান অভিবাবকরাও। জেন আলফা শ্রেণীর (২০১০ সালের পরে জন্মগ্রহণকারী) ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে জেলাশাসকের দফতর পর্যন্ত মিছিল করে। যদিও তাদের জেলাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, একটি পাকা রাস্তার দাবি নতুন নয়। তারা বলেন, স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ওই কাঁচা রাস্তা দিয়ে বর্ষাকালে
যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে এক অভিভাবক বলেন, ‘ভারী বর্ষার সময় এই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যায়। ফলে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও, বন বিভাগ আগে এই সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত একটি বিকল্প পথ সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে। ওই এলাকায় তাদের প্রবেশাধিকার আরও সীমিত করে দিয়েছে।’

প্রতিবাদী মিছিলের লোকজন জানান যে, রাস্তাটি ঠিক করার জন্য অনেক চেষ্টার পর কর্তৃপক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রাস্তায় মাটি দিয়েছিল। কিন্তু বর্ষা শুরু হতেই ওই রাস্তা আবার কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) অভিষেক কুমার এবং সার্কেল অফিসার যশপাল সিং ছাত্রদের ডিএম-এর অফিসে পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাত্ররা তাদের মিছিল চালিয়ে যায়।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্কুল-পড়্যাদের এই বিক্ষোভকে সমর্থন করে বলেন, ‘এই শিশুদের স্যালুট, যারা তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছে! তারা শুধু তাদের স্কুলে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা চাইছে। স্বাধীনতার প্রায় ৮০ বছর পর এটা কি খুব বেশি চাওয়া? এটা কয়েক দশক আগেই করা উচিত ছিল। এই ১৫ই আগস্ট, আসুন আমরা গ্রামীণ ভারতের শিশু ও স্কুলগুলির জন্য কাজ করার শপথ নিই।’

স্কুল শিক্ষাকে কেন্দ্র করে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি নতুন প্রচারাভিযান শুরু করার একদিন পর এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার এই প্রচারাভিযান শুরু করার সময় দীপকে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা নতুন সংসদ, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরি করেছি। তাহলে কেন আমরা আমাদের গ্রামগুলিতে নতুন স্কুল তৈরি করতে পারিনি? আমরা কি কৃষক ও শ্রমিকদের সন্তানদের আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ বলে মনে করি না?’

সৌজন্যে : দ্য ওয়ার (thewire.in)

111 Views