ওয়েব ডেস্ক : এক সমীক্ষায় প্রতিবেদনে প্রকাশ, দেশে ৬০০ জেলার মধ্যে ২৫০ জেলায় ১৫-২৯ বছর বয়সীরা বেকার। এরা কোনও কাজের সঙ্গেই যুক্ত নয়। চাকরি, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ কোনও ক্ষেত্রেই তারা যুক্ত নয় বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সমীক্ষাটি করেছে কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রক। গত শুক্রবার কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রক পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা বা ‘পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে। ওই রিপোর্টে প্রতিটি রাজ্যের জেলাওয়াড়ি বেকারত্বের হার তুলে ধরা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬০০ জেলার প্রায় ২৫০টি জেলায় ২৫ শতাংশেরও বেশি যুবক-যুবতী (১৫-২৯ বছর বয়সী) কোনও কাজে যুক্ত নন, কিংবা কাজের জন্য কোনও শিক্ষা (এডুকেশন) বা প্রশিক্ষণও (training) গ্রহণ করছেন না। সমীক্ষা (পিএলএফএস) থেকে দেখা গেছে, উত্তর ভারতের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, বিশেষ করে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে, যেখানে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জেলায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ তরুণ তরুণীর NEET (not in employment training and education) কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে নেই। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, আসাম এবং তেলেঙ্গানার প্রায় অর্ধেক জেলায় ২৫ শতাংশ তরুণ তরুণীর NEET (কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে) নেই।
বেকারত্বের হারে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ অরুণাচল প্রদেশের পাপুমপারে জেলা। এই জেলায় বেকারত্বের হার ১৬.১শতাংশ, যা দেশের বর্তমান বেকারত্বের গড় হারের (৫ শতাংশ) তিন গুণেরও বেশি। উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগাল্যান্ডে রয়েছে বিজেপি ও এনপিএফের জোট সরকার। এই রাজ্যের কোহিমায় বেকারত্বের হার ১৪.৯ শতাংশ। বেকারত্বের হারে শীর্ষে থাকা ১০ জেলার মধ্যে দু’টিই উত্তর-পূর্ব ভারতের হওয়ায় কেন্দ্রের নর্থ-ইস্ট পলিসি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া প্রথম ১০-এ রয়েছে বিজেপি শাসিত রাজস্থানের জয়পুর, বিহারের পাটনা, গোয়ার দক্ষিণ গোয়া এবং উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল। কংগ্রেস শাসিত হিমাচল প্রদেশের সোলান ও সিরমৌর, তেলেঙ্গানার ভদ্রাদি কথাগুদেম জেলা রয়েছে এই তালিকায়। আছে এনসি (ন্যাশনাল কনফারেন্স) শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরও।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যে বেকারত্বের হারে শীর্ষে রয়েছে নদীয়া। যদিও দেশের মধ্যে এই জেলার স্থান ৪৯-এ। কেন্দ্রের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া ছাড়াও মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ আরো ন’টি জেলার বেকারত্বের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বেকারত্বের হার সব থেকে কম, মাত্র ০.৯ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে খাতায় কলমে বেকারত্বের হার কম হওয়ার আরেক কারণ বেশিরভাগ যুব সম্প্রদায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন। নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দেশে ‘নিট’ (NEET)-এর সংখ্যা প্রায় নয় কোটি।


