ওয়েব ডেক্স : দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের কামরায় চা, ঝালমুড়ি, ঘুগনি, বিস্কুট, চিনাবাদাম, খেলনা থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছেন হাজার হাজার হকার। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের এই হকারদের জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। রেল কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি এবং ট্রেনে হকারি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের একটাই প্রশ্ন- ‘আমরা খাব কী? বাঁচব কীভাবে?’
হকারদের অভিযোগ, সম্প্রতি আরপিএফের নজরদারি অনেকটা বেড়েছে। বহু ক্ষেত্রে স্টেশনে হকারদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেউ লুকিয়ে ট্রেনে উঠে পণ্য বিক্রি করতে গেলেও ধরা পড়লে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা, ফলে ভয়ে অনেকে আর ট্রেনে উঠছেন না। এতে এক লহমায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের একমাত্র আয়ের পথ।
হকার সংগঠনগুলির দাবি, পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন সংগঠনের অধীনে হাজার হাজার হকার কাজ করেন। তাদের অধিকাংশ নিম্নআয়ের পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ। প্রতিদিনের উপার্জনের উপর নির্ভর করে চলে সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। কাজ বন্ধ হওয়ায় সেই পরিবারগুলি আজ সবচেয়ে বেশি বিপাকে। ইতিমধ্যে কাঁকিনাড়া রেল স্টেশনে একজন হকার আত্মঘাতী হয়েছেন।

হাবড়ার বাসিন্দা একজন হকার বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রেনে শিশুদের খেলনা বিক্রি করে আসছেন তিনি। কিন্তু জরিমানার ভয়ে এখন আর ট্রেনে উঠতে সাহস পান না। বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানের দায়িত্ব, অথচ আয়ের পথ বন্ধ। একই ছবি স্টেশনে স্টেশনে চা বিক্রেতাদের। সংসারের একমাত্র উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনের হকারদের পুনর্বাসন অথবা বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি তুলেছে বিভিন্ন হকার সংগঠন। তাদের দাবি শীঘ্রই শিয়ালদহ রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বিকল্প জীবিকার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। ‘সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনগুলি।’ তাদের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি বহু বছরের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যতের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। রেলের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হকারদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ছবি : পার্থ মিত্র

89 Views