আশিস কুমার ঘোষ, বারাসত

বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতাল চালু করল একটি বিশেষ ‘বোটক্স ও মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার ক্লিনিক’। এর ফলে স্নায়বিক চলাচলের সমস্যা বা ‘মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার’-এ আক্রান্ত রোগীরা এখন বাড়ির কাছেই উন্নতমানের ‘বোটুলিনাম টক্সিন থেরাপি’র সুবিধা পাবেন। এতদিন পর্যন্ত বারাসত ও পার্শ্ববর্তী এলাকার রোগীদের এই বিশেষ চিকিৎসার জন্য প্রায়শই কলকাতায় যেতে হতো। এই ক্লিনিকটি চালু হওয়ায় রোগীরা এখন স্থানীয়ভাবেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাবেন। ফলে যাতায়াত ও অপেক্ষার সময় উভয়ই কমবে। এই বোটক্স ক্লিনিকে ডিস্টোনিয়া, হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম, ব্লেফারোস্প্যাজম, সার্ভাইকাল ডিস্টোনিয়া, স্ট্রোক-পরবর্তী স্পাস্টিসিটি, দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেন এবং অন্যান্য মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারের, যেখানে বোটুলিনাম টক্সিন থেরাপি চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন, সেখানে রোগীদের মূল্যায়ন ও চিকিৎসা প্রদান করা হবে। প্রতিটি রোগীর বিস্তারিত স্নায়বিক পরীক্ষা করা হবে এবং এরপর তাদের শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে একটি সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। নয়া এই ক্লিনিকে কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা. অম্লান কে. দত্ত এবং ডা. অনন্যা দাসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ক্লিনিকটি প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিষেবা দেবে।

বৃহস্পতিবার এই ক্লিনিক সম্পর্কে ডা. অম্লান কে. দত্ত বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ পরিষেবা সহজে না পাওয়ার কারণে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারের সমস্যাগুলো অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসাবিহীন থেকে যায়। এই ক্লিনিকের মাধ্যমে রোগীরা একই ছাদের নিচে সামগ্রিক মূল্যায়ন ও প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর শারীরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, অস্বস্তি হ্রাস এবং দৈনন্দিন জীবনে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।’ এদিন ডা. অনন্যা দাস বলেন, ‘অনেক রোগীই প্রচলিত ওষুধ সেবন সত্ত্বেও যন্ত্রণাদায়ক পেশীর খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নড়াচড়া, স্ট্রোক-পরবর্তী আড়ষ্টতা বা দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন। বোটুলিনাম টক্সিন থেরাপি শারীরিক অক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে, চলাফেরার ক্ষমতা বাড়াতে, ব্যথা উপশম করতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো, এই অঞ্চলের রোগীদের জন্য এই উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি সহজলভ্য করা, যাতে তাদের বড় কোনও শহরে বা মেট্রোপলিটন কেন্দ্রে যেতে না হয়।’ বারাসতের নারায়ণা হাসপাতালের ফ্যাসিলিটি ডিরেক্টর শুভাশিস ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বারাসত এবং সংলগ্ন এলাকার রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসার সুবিধা হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই বোটক্স ক্লিনিকটি চালু করা সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ। এই ক্লিনিকটি চালু হওয়ার ফলে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় (নিউরোলোজিক্যাল ডিসঅর্ডার) আক্রান্ত রোগীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে।

23 Views