ওয়েব ডেস্ক : নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্মের দেশব্যাপী আন্দোলনের জেরে এই প্রথম এ বিষয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করলেন যে, এই ধরনের মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল, শিবসেনা (ইউবিটি), বামদলগুলি-সহ বিরোধী দলগুলোও সিজেপির এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন একটি এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই! প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের এটি একটি অংশ। যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না’।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রায় মাসখানেক জুড়ে অবস্থান বিক্ষোভ করছে ছাত্র-যুবরা। ২০ জুলাই সিজেপি ডাকে সংসদ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হাজার হাজার ছাত্র-যুব যোগ দেয়। সেই মিছিলের উপর বর্বরোচিত আক্রমণ নামায় দিল্লি পুলিশ। বহু বিক্ষোভকারী গুরুতর জখম হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সিজেপি তাদের প্রতিক্রিয়ায় পরিষ্কার জানিয়েছে যে, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে’। পাশাপাশি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবি এবং ‘হাই, আমার নাম নাথিং’ ক্যাপশন দিয়ে একটি মিম তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘আমাদের যুবকদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই’ বক্তব্যকে কটাক্ষ করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি পাল্টা জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করেন, ‘আপনিই আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ দখল ও ধ্বংসকে অনুমতি দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন – এবং এর জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে রক্ষা করেছেন।’ রাহুল গান্ধি ফের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। ‘শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট: ১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন। ২. শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। ৩. যারা তাদের ওপর হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’ বুধবার রাহুল দাবি করেছিলেন যে, গত ১০ বছরে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এই মামলাগুলোতে একটিও সাজা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এখন দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এনডিএ-র বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং এটিকে ‘ঘোরতর পাপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং রাজধানীতে সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের বিষয়ে বিরোধীরা সংসদে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিবৃতির দাবি করে আসছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিরোধী দল এবং সিজেপি-র বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেরও দাবি করছেন। সংসদে যেকোনও আলোচনার জন্য বিরোধীরা পদত্যাগকে একটি শর্ত হিসেবে রেখেছে। সরকার সংসদে বিতর্কে রাজি হয়েছে। যদিও, পদত্যাগকে শর্ত হিসেবে রেখে বিতর্ক আটকে দেওয়ার জন্য বিরোধীদের পালটা অভিযুক্ত করেছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিগত দুই দশকে ৪৫টি বড় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে সম্পর্কিত মামলার অবস্থা নিয়ে একটি তদন্ত প্রকাশ করেছে। প্রতিটি পরীক্ষায় কমপক্ষে এক লাখ আবেদনকারী বা পরীক্ষার্থী ছিল। ওই তদন্তের ফলাফলে দেখা গেছে যে, এই মামলাগুলির মধ্যে মাত্র দুটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বাকিগুলির বেশিরভাগই আইনি চোরাবালিতে আটকে গেছে বা কেবল একটি অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডি টিভি (theindianexpress.com & ndtv.com)

106 Views