ওয়েব ডেস্ক : দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১২ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে অশোকনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ। নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তার জেরে একাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রতিবাদে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অব্যাহত রয়েছে সিজেপি-র লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ ও অনির্দিষ্টকালের অনশন ধর্মঘট। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার অনির্দিষ্টকালের অনশন ধর্মঘট আজ রবিবার ১৫ দিনে পড়ল। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের অবস্থান বিক্ষোভ পড়ল ২৩ দিনে। এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এদিন অশোকনগর বাণীপীঠ গার্লস হাইস্কুলের সামনে সকাল ৯টা রাত্রি ৯টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা অনশন কর্মসূচিতে সামিল হয়েছে অশোকনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ।

সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে দেবজিৎ রায় ও দেবল নাগ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত একটি প্রচার পত্রে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও নাগরিকদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে যে, দেশের শিক্ষিত ছাত্র-যুবরা দিল্লীর রাজপথে। অভুক্ত অনশনে। পৃথিবীর বৃহত্তম বেকারের দেশ ভারতবর্ষ। সামান্য সুযোগ হলেও, যোগ্যতা প্রমাণ করতে দুর্নীতির পাহাড় টপকে যাওয়া অসম্ভব। নীট থেকে টেট পরীক্ষা মানেই প্রশ্ন ফাঁস, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। দেশ যত ‘এগিয়ে চলেছে’, দুর্নীতির গতি তত বেড়ে চলেছে। অন্ধকার ঘরে আবদ্ধ থেকে প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাবার আশা প্রতিদিন আরও গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। তাদের জীবনে আত্মহত্যাই কি শেষ পরিণতি? সমীক্ষা বলছে, ৪৯টি প্রশ্নপত্র ফাঁস কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির রেকর্ড গড়েছে। ছাত্ররা বলছে, গোটা সিস্টেম দুর্নীতির সাথে যুক্ত। শিক্ষামন্ত্রী সহ গোটা দপ্তর এর সঙ্গে যুক্ত। তাই, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। দেশের সরকার, তার মুখপাত্ররা ছাত্রদের এই প্রশ্ন তোলাকে বিদেশী মদত, দেশদ্রোহী, শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের “আরশোলার” মতো আচরণ ইত্যাদি বলছেন। ২১ জন ছাত্র-ছাত্রীকে যারা আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিল, তারা কি “দেশপ্রেমী”?
দেশের ছাত্র-যুবরা এমন একটা সরকার ও তার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে জীবন বাজি রেখে দিল্লির রাস্তায় অনশন করছেন। তাদের পাশে রয়েছেন, দেশের বিশিষ্টজন, অভিভাবকমণ্ডলী। তাই অশোকনগরের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে দিল্লীর ওই অনশনরতদের সমর্থনে একদিন অন্তত অনশনে সামিল হবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিন ১২ ঘণ্টার এই অনশনে বসেন দেবজিৎ, দেবল, অভিজিৎ, মালিনী, জয়শ্রী, সুমিতা, জাগরী, সপ্তক, পার্থ ও আরজু। বিভিন্ন সময়ে এই অনশন মঞ্চে বক্তব্য রাখেন ডা: সুজন সেন, আইনজীবী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস, চিত্রকর বিনায়ক ভট্টাচার্য, অঙ্গীকার সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়, শঙ্কর দাস-সহ একাধিক সহনাগরিক। পড়ুয়াদের ৫টি দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অনশনকারীরা এবং অন্যান্য বক্তারা। উল্লেখ্য, পড়ুয়াদের দাবিগুলি হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই, অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তের ভিত্তিতে নীট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এর দায় কেন্দ্র সরকারকে নিতে হবে, অবিলম্বে এনটিএ ( NTA)-এর মতো দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থাকে পরীক্ষা ব্যবস্থার সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে, শিক্ষার বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করতে হবে ও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।

94 Views