অমর চক্রবর্তী, অশোকনগর
পেশায় তিনি বাংলার শিক্ষিকা। নেশা কবিতা লেখা ও আবৃত্তি করা। দু’বছর আগে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে তার কাঁধেই ভার পড়ে বাড়ির দুর্গাপুজোয় চণ্ডীপাঠ করার। সাগ্রহে সেই দায়িত্ব পালন করছেন টুম্পা মুখোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুখার্জি বাড়িতে প্রতি বছরই নারী কন্ঠে চণ্ডীপাঠ করা হয়। এই চণ্ডীপাঠ করেন মুখার্জি বাড়ির কন্যা শিক্ষিকা টুম্পা। গত দু’বছর ধরে নিজের বাড়ির পুজোয় এভাবেই চণ্ডীপাঠ করেন তিনি। সচরাচর কোনও পুরুষই চণ্ডীপাঠ করে থাকেন। তবে ১৮৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মুখার্জি বাড়ির পূজোয় গত দু’বছর ধরে বাবার নির্দেশ মেনে চণ্ডীপাঠ করে চলেছেন টুম্পা মুখোপাধ্যায়।
বিগত বছরের মতো এবারও সপ্তমীর দুপুরে মুখার্জি বাড়িতে সুললিত কন্ঠে, শুদ্ধ উচ্চারণে শিক্ষিকা টুম্পা মুখার্জির কন্ঠে শোনা গেছে চণ্ডীপাঠ। উল্লেখ্য, মুখার্জি পরিবারের আদি বাড়ি ছিল ফরিদপুর। দেশভাগের পর তারা এপার বাংলায় চলে আসেন এবং দুর্গাপুজোর সেই ধারা বজায় রাখেন। গত ১৫ বছর ধরে কল্যাণগড়ে তাদের বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। পুজোয় আমন্ত্রিত হন পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন সকলেই।
মুখার্জি বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব, পঞ্চমীতে ঘট স্থাপন করে পুজো শুরু হয়। আর দশমীতে নিয়ম মেনে বিসর্জন। একটা সময় বলিদান প্রথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রথা বন্ধ করে দেন মুখার্জি পরিবারের সদস্যরা। শিক্ষিকা টুম্পা মুখার্জি জানান, বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে তিনি গত বছর থেকে চণ্ডীপাঠের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি এদের পুজোর পৌরহিত্ব করেন এদেরই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের কোনও একজন। বাইরের কাউকে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এই জাগ্রত দুর্গা মায়ের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির বড় ছেলে বাবলা মুখোপাধ্যায় হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এবারের পূজো হবে কিনা তারই কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু দেবী দুর্গার কৃপায় পুজোর আগে তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং যথারীতি মুখার্জি বাড়িতে পূজিতা হচ্ছেন দেবী দুর্গা।


