অমর চক্রবর্তী, প্রফুল্লনগর
প্রতিবছরের মতো এবারেও চমক দিতে প্রস্তুত প্রফুল্লনগরের আচার্য প্রফুল্ল সংঘ। কালীপুজোর এই জনপ্রিয় কমিটি এবার তাদের ৭০তম বর্ষের শ্যামাপুজোর মণ্ডপ সজ্জায় তুলে ধরতে চলেছে প্রতিবেশী দেশ নেপালের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র মন্দির – পশুপতিনাথের মন্দির। নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে যেভাবে উদ্বিগ্ন করেছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি ও মঙ্গলের বার্তা দিতেই এই অভিনব ভাবনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির এক উদ্যোক্তা জানান, সম্প্রতি পশুপতিনাথ মন্দিরেও উন্মত্ত জনতা আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। যদিও সবার সম্মিলিত চেষ্টায় তা রোধ করা গেছে। এই প্রেক্ষাপটেই তাঁরা নেপালের শান্তি কামনা করছেন এবং সকলের মঙ্গলার্থে এবার শ্যামাদেবীর আরাধনার ব্রতী হয়েছেন। মণ্ডপ সজ্জার ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোয় নানা ধরনের স্থাপত্য তুলে ধরে নজর কেড়েছে আচার্য প্রফুল্ল সংঘ। কখনও বুর্জ খলিফা, তো কখনও ইউরোপের স্থাপত্যের আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছে। আর প্রতিবারই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়িয়েছে।
প্রফুল্লনগর সুইমিং পুলের অদূরে আয়োজিত এই কালীপুজো এবারেও হাবরা-অশোকনগরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এবছরের মাতৃপ্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হবে রক্তবীজ বধ। এটিও দর্শনার্থীদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। এছাড়া প্রতিবছরের মতোই এবারেও রয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এবারের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সারেগামা’র দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ময়ূরী দারানি’র সঙ্গীত পরিবেশনা। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে শ্যামামায়ের আরাধনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ধুমধাম করে এই পুজোর খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওইদিন খুঁটিপুজোয় হাবড়া এবং অশোকনগরের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। উদ্যোক্তারা আশা করছেন, নেপালের পশুপতিনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ এবং অন্যান্য আয়োজন এবছর তাদের ৭০তম বর্ষের কালীপুজোকে এক নতুন মাত্রা দেবে।


