অমর চক্রবর্তী, অশোকনগর

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কল্যাণগড় বিধানচন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক প্রবোধ দত্ত। বারাসাতের একটি নার্সিংহোম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই প্রবীণ শিক্ষকের মৃত্যু হয়। শনিবার মৃতদেহ কচুয়া মোড়ের কাছে তার নিজস্ব বাসভবনে আনা হলে অগণিত গুণমুগ্ধ ছাত্র এবং আত্মীয়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাসভবন থেকে তার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় কল্যাণগড় বিধানচন্দ্র বিদ্যাপীঠ স্কুলে। সেখানেও শেষ শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত শিক্ষক, ছাত্র এবং প্রাক্তন ছাত্ররা। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন প্রবোধ স্যার। বিধানচন্দ্র বিদ্যাপীঠ থেকে অবসর নেওয়ার পরেও নিয়মিত ক্লাস নিতেন। তবে সম্প্রতি স্ত্রীর দুরারোগ্য রোগ ধরা পড়ার পর থেকেই আরও বিমর্ষ হয়ে পড়েন তিনি। স্বল্পকালীন রোগভোগের পরে শুক্রবার রাতে তাঁর জীবনাবসান হয়।

প্রবোধ বাবুর বাবা ছিলেন কিংবদন্তি শিক্ষক এবং হোমিও চিকিৎসক প্রমথ দত্ত। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনিও নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন শিক্ষকতার পেশায়। ছাত্র-ছাত্রীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রদের ভবিষ্যতে কি করা উচিত সে বিষয়েও পরামর্শ দিতেন।
বিধানচন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক বাণীব্রত রায় জানান, স্কুলের সমস্ত কাজে তিনি প্রাক্তন প্রধানের যে সহযোগিতা পেয়েছেন তা বিরল। একজন আদর্শবান শিক্ষকের মৃত্যুতে শিক্ষা জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিল স্কুলের ১৯৯৩ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের বেশ কয়েকজন ছাত্র। এমনই এক ছাত্র হরেকৃষ্ণ সাহা জানান, তাঁর মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান হলো। কোনওদিনও ভোলা যাবে না প্রিয় শিক্ষককে। গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্যান্য প্রাক্তন ছাত্ররা। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন অশোকনগরের প্রাক্তন বিধায়ক ধীমান রায়, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গুপি মজুমদার, কংগ্রেস নেতা অংশুমান রায় প্রমুখ।

222 Views