ওয়েব ডেস্ক : রাজ্যের ভোটার তালিকায় বাইরে থেকে অবৈধ ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। মঙ্গলবার এমনই গুরুতর অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশ থেকে অবৈধ ভোটারদের রাজ্যের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি বলেন, নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একদিনে প্রায় ৩০,০০০ ফর্ম জমা পড়েছে। গতকাল অভিষেক ব্যানার্জি তাঁকে এই খবর জানানোর পর তাঁর প্রচার কর্মসূচির মাঝপথেই কলকাতার নির্বাচন কমিশনের অফিসে ছুটে যেতে হয়। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, বিজেপি বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের অবৈধ ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা বিহারের মতোই রেলপথে দূরবর্তী ভোটারদের নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে।
এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় একটি নির্বাচনী জনসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে তাঁর ভাষণে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি জনগণের প্রতি তিনি আবেদন জানান যে, রাজ্যের বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলের প্রার্থী কারা, তা উপেক্ষা করে ২৯৪টি আসনের সবকটিতেই তাঁকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হোক। বাংলা ও এখানকার মানুষের প্রতি গেরুয়া দলের কোনও সম্মান নেই বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নারী ও সংখ্যালঘুদের নাম মুছে ফেলছে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মানুষের নাগরিকত্ব, সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব’। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি বাঙালিদের ‘আমিষ খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে পেছনের দরজা দিয়ে এনআরসি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রের প্রচেষ্টা এবং নির্দিষ্ট নাগরিকদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেবে তৃণমূল কংগ্রেস।


