ওয়েব ডেস্ক : ‘নকশালমুক্ত ভারত নয়, দারিদ্র ও শোষণমুক্ত ভারতবর্ষ গড়ে তোল’, এই আওয়াজ তুলে কলকাতায় রাজপথে হাঁটলেন সিপিআইএমএল (নিউ ডেমোক্রেসি)-এর শ’পাঁচেক কর্মী। কেন্দ্রের মোদি সরকার ও এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার ঘোষণা করেছেন যে, ২০২৬ সালের মধ্যে ‘নকশালমুক্ত’ ভারত গড়ে তোলা হবে। বুধবার এর তীব্র প্রতিবাদে মিছিলে পা মেলান নকশালপন্থীরা। তাঁদের দাবি, নকশালবাড়ির পথে যাঁরা শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন সেই কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের ভারত থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যেই শাহ এমন ঘোষণা করেছেন। আর সেইমতো ‘অপারেশন কাগার’-এর নামে সিপিআই (মাওবাদী) সমর্থক ও তাদের নেতাদের ভূয়া সংঘর্ষের তকমা দিয়ে একের পর খুন করা হচ্ছে। অথচ, সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শোষিত মানুষ, আদিবাসী, বনজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দাবিতে লড়াই করছে।

সিপিআইএমএল (নিউ ডেমোক্রেসি) প্রশ্ন তুলেছে, ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালমুক্ত ভারত-এর অর্থ কি? নকশালবাড়ি আন্দোলনের অনুসারীরা কি সাধারণ মানুষের শত্রু? এ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি অঞ্চলে ১৯৬৭ সালে অত্যাচারী জমিদার ও প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন কৃষকরা, চা-শ্রমিকরা ও সাধারণ মানুষ। এর নেতৃত্ব দেয় কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কৃষক, চা-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় হয়। জমিদারদের জমি কেড়ে তা দরিদ্র ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিলি করা হয়। শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ওই আন্দোলনে যুক্ত কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সেই থেকে নকশালবাদী বলা হয়। মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকশালমুক্ত ভারত গড়ার ঘোষণা করলেও জনগণের মূল সমস্যাগুলো দূর করার জন্য কোনও সময়সীমা ধার্য করেনি। এর বিপরীতে কর্পোরেট সংস্থার স্বার্থ রক্ষা করছে। জল, জমি, জঙ্গল লুঠ করে কর্পোরেটের হাতে তুলে দিচ্ছে। নিপীড়িত মানুষের লড়াইকে দমন করতে চালু করেছে ‘অপারেশন কাগার’। তাই এদিন নকশালপন্থী এই সংগঠন আওয়াজ তুলেছে ‘নকশালমুক্ত ভারত নয়, দারিদ্র ও শোষণমুক্ত ভারত গড়ে তোল’।

246 Views