ওয়েব ডেস্ক : সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরকারের সমালোচনা করা বিষয়বস্তু (কনটেন্ট)-কে লক্ষ্য করে জারি করা একাধিক টেকডাউন আদেশের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (পিসিআই)। ওইসব টেকডাউন আদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্লক করা হয়েছে বা তাদের বিষয়বস্তু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১ এপ্রিল বুধবার এক বিবৃতিতে, পিসিআই এই পদক্ষেপকে ‘স্বেচ্ছাচারী এবং সংবিধান লঙ্ঘনকারী’ বলে উল্লেখ করেছে।
ওই বিবৃতিতে পিসিআই বলেছে, ‘অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক)-এর অনুসারে বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অস্বীকারের সমতুল্য এই পদক্ষেপ। যেমন, সুপ্রিম কোর্ট শ্রেয়া সিংঘল বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলায় রায় দিয়েছে, যেখানে
সাংবিধানিক বিধিনিষেধের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সংযোগের অভাব এবং ভীতিপ্রদ প্রভাব সৃষ্টির কারণে যথেচ্ছ অনলাইন সেন্সরশিপকে সক্ষম করে এমন অস্পষ্ট বিধান বাতিল করে দিয়েছে আদালত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, গত কয়েকদিনে ফ্যাক্ট-চেকার মোহাম্মদ জুবায়ের এবং সংবাদমাধ্যম মলিটিক্স ও ন্যাশনাল দস্তককে লক্ষ্য করে ফেসবুক এবং এক্স (পূর্বের টুইটার)-এর বিরুদ্ধে নতুন করে টেকডাউন আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এর আগে মার্চ মাসে ফোর পিএম নিউজের ইউটিউব অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছিল। ‘সম্প্রতি, ফেসবুকে মলিটিক্স, ন্যাশনাল দস্তক (১.৪ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার সহ) এবং ব্যঙ্গশিল্পী রাজীব নিগমের পেজগুলি আইটি আইনের অধীনে টেকডাউন অনুরোধের পর ভারতে ব্লক করা হয়েছে, যেখানে ভারতীয় আইন লঙ্ঘনের কারণে বিষয়বস্তু সরানো হয়েছে বলে নোটিশ দেখানো হয়েছে।’ পিসিআই জানিয়েছে, ‘এক্স-এ জুবায়ের একটি নোটিফিকেশন পান যে, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ধারা ৬৯এ-এর আদেশে দেশব্যাপী একাধিক পোস্ট ব্লক করা হয়েছে, যদিও এর নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু বিস্তারিত জানানো হয়নি।’

বিবৃতিতে পিসিআই আরও বলেছে যে, সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরের বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক কার্যকলাপেরই অংশ এইসব পদক্ষেপ। এতে আরও বলা হয়, এর আগেও আয়কর দপ্তরের কারণে ন্যাশনাল দস্তক ইউটিউব নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছিল। এছাড়াও পিসিআই-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পিসিআই ম্যানেজিং কমিটি এই নির্লজ্জ ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করছে এবং দাবি জানাচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষ যেন ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১)(ক) ধারায় অন্তর্ভুক্ত ও সুরক্ষিত নাগরিক এবং সাংবাদিকদের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে সম্মান করে। এই প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা (টেকডাউন অনুরোধের জন্য কোনও কারণ না জানানো) এই অনলাইন সেন্সরশিপকে স্বেচ্ছাচারী এবং সংবিধান লঙ্ঘনকারী করে তুলেছে।’

উল্লেখ্য, ৩০ মার্চ, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) ‘তথ্য প্রযুক্তি (মধ্যস্থতাকারী নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল মিডিয়া নীতিমালা) বিধিমালা, ২০২১’-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তৈরি সোশ্যাল মিডিয়ার খবর ব্লক করা হবে। এই পদক্ষেপকে বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী ‘ডিজিটাল স্বৈরাচার’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর লক্ষ্য হলো বছরের পর বছর ধরে চলমান একটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, যার মাধ্যমে কার্যকরভাবে একটি ডিজিটাল সেন্সরশিপ শাসনব্যবস্থা সুসংহত করা যাবে।
সূত্র : দ্য ওয়ার ডট ইন (thewire.in)

108 Views