অমর চক্রবর্তী, হাবড়া

ভোটের লড়াইয়ে এবার অভিনব প্রচার। এই প্রচারে প্রতিশ্রুতির স্তম্ভ স্থাপন করে নজির গড়লেন হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। স্রেফ মুখের কথা বা ইস্তাহার নয়, বরং জয়ী হলে আগামী পাঁচ বছর এলাকার জন্য তিনি কী কী কাজ করবেন, তা জনসমক্ষে নিয়ে এলেন। বুধবার হাবড়া দেশবন্ধু রোডের কাছে তাঁর কার্যালয়ের সামনে ‘তৃণমূলের প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’-এর আবরণ উন্মোচন করেন তিনি।
এদিন প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাবড়া পুরসভার পুরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, উপ-পুরপ্রধান সিতাংশু দাস, শহর তৃণমূল সভাপতি অনুপ দাস-সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব।

মূলত হাবড়া নিয়ে প্রার্থীর আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার একটি দর্পণ এই প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ। এদিন উদ্বোধনের পর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর প্রধান লক্ষ্যগুলি তুলে ধরে জানান, হাবড়া হাসপাতালকে সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করা হবে এবং ১৫৩ বেডের জেলা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে বাওগাছি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় তৈরি হবে ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’। এছাড়াও হাবড়াবাসীর দীর্ঘদিনের জলনিকাশি সমস্যা মেটাতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে একটি বড় ‘মাস্টার প্রজেক্ট’-এর রূপায়ণ। বাণীপুরে অবস্থিত রাজ্যের একমাত্র স্পোর্টস স্কুলকে বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় ঢেলে সাজানো হবে। ‘কলতান’-এর আদলে বাণীপুরে আরও একটি অত্যাধুনিক প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হবে। এছাড়া বদর-সহ বিভিন্ন এলাকাকে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করা হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়ক অফিসের ঠিক সামনে এই স্তম্ভ স্থাপন করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আসলে ভোটারদের কাছে নিজের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন। এদিন তৃণমূল প্রার্থী আরও জানান, হাবড়ার সাধারণ মানুষ যেন প্রতিদিন এই স্তম্ভ দেখে মনে করিয়ে দিতে পারেন যে তিনি কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ-এর আবরণ উন্মোচনের পর তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, ‘আগামী পাঁচ বছরে হাবড়ার ভোল পাল্টে যাবে। হাসপাতাল থেকে সুপার মার্কেট—সবই হবে আধুনিক মানের।’ এখন দেখার, ভোটের বাক্সে এই ‘প্রতিজ্ঞা’ কতটা প্রভাব ফেলে। যদিও বিজেপি নেতা পার্থ প্রতিম সরকারের কটাক্ষ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবারে জিতবেন না। তাই তার এই প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ ভোটারদের আই ওয়াস মাত্র।

ছবি : উৎপল রায়

95 Views