ওয়েব ডেস্ক : বিরোধী দল শাসিত নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলিতেই বিশেষত তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং সমন জারি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। যার ফলে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে যে, রাজ্য নির্বাচনের আগে বেছে বেছে তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। একটি প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ইংরেজি সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তার পক্ষ থেকে দাবি করে যে, তাদের সব পদক্ষেপই তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এবং আর্থিক অপরাধ দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত। যদিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ফোন, টেক্সট মেসেজ বা ইমেল জিজ্ঞাসার কোনও জবাব দেয়নি ইডি।সংবাদপত্রের এই প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, গত দুই মাসে একাধিক মামলায় তল্লাশি, গ্রেপ্তার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রায় ২০টি অভিযান চালিয়েছে ইডি।
২৮ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে মাত্র ২৩ দিনে ইডি ছ’টি শহর জুড়ে ৫০টিরও বেশি জায়গায় আটটি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়জনকে তলব করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত ইডির মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই মামলাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটিতে ইডি তার হস্তক্ষেপকে রাজ্যে ‘মুক্ত, সুষ্ঠু ও ভয়হীন নির্বাচন নিশ্চিত করার’ একটি পদক্ষেপ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে। – এর তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গে ইডির পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে আই-প্যাকের পরিচালক প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি এবং তার ফলস্বরূপ আই-প্যাকের আর এক পরিচালক ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তার। উল্লেখ্য, আই-প্যাক একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা, যার অন্যতম বড় গ্রাহক হলো বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ৩.৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ওই প্রতিবেদন জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিনের শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গত ১১ এপ্রিল ইডি নতুন করে অভিযান চালায়। অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ নুসরত জাহান, মন্ত্রী সুজিত বোস ও রথিন ঘোষ সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে সমন জারি করেছে ইডি এবং তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
অপর একটি রাজ্য কেরালাতেও নির্বাচন হতে চলেছে। সেখানে সবরিমালা-সংক্রান্ত একটি স্বর্ণ আত্মসাৎ মামলায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ২১টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। একইভাবে, তামিলনাড়ুতে, টাসম্যাক (TASMAC) লেনদেন-সংক্রান্ত কথিত অনিয়মের বিষয়ে ইডির তদন্ত তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আরও একটি বিরোধী-শাসিত রাজ্য পাঞ্জাবের ১০টিরও বেশি স্থানে গত ১৫ এপ্রিল অভিযান চালিয়েছে ইডি। উল্লেখ্য, আগামী বছর পাঞ্জাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র : দ্য ওয়ার (thewire.in)

