ওয়েব ডেস্ক : দিল্লি এনসিআর-এর শিল্প শ্রমিকদের প্রতি ন্যায্য আচরণের দাবিতে ৩০০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। অভিনেতা ও প্রকাশক সুধনভা দেশপান্ডের শুরু করা ওই আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশের সহিংসতা ও অবৈধ আটক এবং শ্রমিকদের অপবাদ দেওয়ার খবরে স্বাক্ষরকারীরা ‘গভীরভাবে বিচলিত’। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী ও লেখক টিএম কৃষ্ণ, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহ, নৃত্যশিল্পী মল্লিকা সারাভাই, কবি কে সচ্চিদানন্দন, ঔপন্যাসিক গীতা হরিহরণ, চলচ্চিত্র পরিচালক আনন্দ পাটবর্ধন, নাট্য পরিচালক এমকে রায়না এবং সাংবাদিক নেহা দীক্ষিত প্রমুখ। অসহনীয় কর্ম পরিবেশ ও অসহনীয় জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করেছেন তাঁরা। ন্যায্য অধিকারের দাবিতে সংগঠিত শ্রমিকদের আন্দোলন সম্পর্কে সুধনভা দেশপান্ডে বলেছেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল সংবাদ জগতে তুচ্ছ বিষয়ও ‘ব্রেকিং নিউজ’ হয়ে ওঠে, অথচ মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো বিস্মৃত ও উপেক্ষিত হয়। এই আবেদনটি শ্রমিকদের সংগ্রাম এবং তাদের উপর হওয়া নিপীড়নের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা।’
কম মজুরি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শ্রম সুরক্ষার দুর্বল পরিস্থিতির প্রতিবাদে নয়ডা ও গুরুগ্রামের বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিটে সাম্প্রতিক শিল্প ধর্মঘটে ৪০,০০০-এরও বেশি শ্রমিক অংশগ্রহণ করেছেন। কর্তৃপক্ষ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং ব্যাপক ধরপাকড়-সহ জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। শত শত শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেক আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোকে অনেকেই প্রশাসনিক বাড়াবাড়ি বলে উল্লেখ করেছেন।

‘দিল্লি এনসিআর-এর শ্রমিকদের প্রতি সংহতি’ শিরোনামে তাঁরা লিখেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লি এনসিআর-এর অনেক অংশে শিল্প শ্রমিকরা তাদের কাজের পরিবেশ এবং মজুরি সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ করেছেন। উল্লেখ্য, শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে দানা বাঁধছিল। সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির উল্লম্ফন এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, পুরোনো শ্রম আইন বদলে নতুন শ্রম বিধিমালা প্রবর্তনের কারণেও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লির সরকার কঠোর দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের সহিংসতা, অবৈধ আটক, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না করে গ্রেপ্তার, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ও আইনি সহায়তা-সহ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় নেতা, সংসদ সদস্য, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের শ্রমিকদের বিক্ষোভস্থলে যেতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণপন্থী প্রচারযন্ত্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বিক্ষোভকারীদের ‘শহুরে নকশাল’ ও ‘দেশদ্রোহী’ বলে অপবাদ দিচ্ছে। এইসব প্রতিবেদনে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অসহনীয় কর্মপরিবেশ ও জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এই দেশের যেকোনও নাগরিকের অধিকার। এই অধিকার ভারতের সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত এবং এটি কোনও রাজনৈতিক দলের বদান্যতার উপর নির্ভরশীল নয়। গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন, যখন তারা সহিংসতার শিকার না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারেন, যখন তাদের কার্যকলাপকে কলঙ্কিত ও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আমরা কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও দিল্লি রাজ্য সরকারের কাছে নিম্নলিখিত দাবি জানাচ্ছি:
১) শ্রমিকদের সঙ্গে সহানুভূতিশীলভাবে আলোচনা করুন এবং বিক্ষোভকে ‘আইনশৃঙ্খলা’র বিষয় হিসেবে গণ্য করবেন না।
২) এই বিক্ষোভের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সকল শ্রমিক, তাদের নেতা, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীকে অবিলম্বে মুক্তি দিন।
৩) একটি সুষ্ঠু ও বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করুন, যার মাধ্যমে শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিরা কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।
সূত্র : দ্য ওয়ার ডট ইন (thewire.in)

82 Views