ওয়েব ডেস্ক : পাকিস্তানে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং ৭১ জন আহত হয়েছে। রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানি শহর কোয়েটার একটি রেলস্টেশনের কাছে ট্রেন যাওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতার দাবি করছে এই সংগঠন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে বিস্ফোরণটি একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল।
জরুরি বিভাগের একজন কর্মী মুহাম্মদ জিশানের মতে, ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে দিয়ে এই বিস্ফোরণের তদন্ত করার জন্য এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৭১ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। কোয়েটার হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি ঠিক রেললাইনের কাছেই ছিলাম। আমরা কীভাবে বেঁচে গেলাম, তা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। বিস্ফোরণটি ভয়াবহ ছিল। আল্লাহর রহমতে, আমরা বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’ ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (সিটি) কাদির কামব্রানি জানিয়েছেন যে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও লাইনচ্যুতির ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় সংখ্যাটি এখনও যাচাই করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই হামলাকে একটি ‘জঘন্য বোমা বিস্ফোরণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসের এমন কাপুরুষোচিত কাজ পাকিস্তানের জনগণের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।’
এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি কোয়েটা সফর করেন এবং বেলুচিস্তান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যার রাজধানী হলো কোয়েটা। বৈঠকে নাকভি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘পশুরা চরম নৃশংসতার সাথে নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।’ প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের তেল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতার ঘটনা ঘটে আসছে। বিএলএ এর আগেও এই অঞ্চলে বড় আকারের বোমা হামলা এবং আত্মঘাতী অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। ফেব্রুয়ারিতে, বিএলএ বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী ও বন্দুক হামলার দায় স্বীকার করেছিল। ওই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

