অমর চক্রবর্তী, হাবড়া

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার দায় তৃণমূলের উপরই চাপালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ওই হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ”তৃণমূলই তৃণমূলের উপর আক্রমণ করছে। এগুলি ২৫-৭৫ ভাগের গণ্ডগোল।’ উত্তর ২৪ পরগনার প্রফুল্লনগরে দলীয় নেত্রী তনুজা চক্রবর্তীর প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শমীক ভট্টাচার্য। হাবড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলকে পাশে রেখে এমনটাই বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি, আটকের প্রতিবাদে রবিবার সকালে চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে আহত হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে। সেই ঢিলের আঘাত মাথায় লেগে তৃণমূল সাংসদকে পড়ে যেতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এদিন পালটা শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির ‘দূর দূরান্তেরও কোনও সম্পর্ক নেই।’ তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল থেকে সদ্য বিজেপিতে আসা কিছু ব্যক্তি বা সমর্থকদের ঘিরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির আরও দাবি, হাবরা-অশোকনগর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের ‘চার ঘণ্টার বিজেপি’ হওয়া কর্মীরা সক্রিয় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দল আরও কিছুটা সময় চায় বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘মন্ত্রিসভা গঠন হয়ে যাওয়ার পর এই বিষয়গুলি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’ এদিন তিনি অভিযোগ করেন, বহু ব্যক্তি মূলত তৃণমূলেরই লোক, যারা বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে বালি খাদান, পাথর খাদান-সহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিজেপি তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন শমীক ভট্টাচার্য। দলের কোনও বিধায়ক বা সাংসদ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে মদত দেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানান তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী-র বার্তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি বা দখলদারি রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত করার লক্ষ্যেই বিজেপি কাজ করছে।

25 Views