ওয়েব ডেস্ক : ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর.জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৩১ বছর বয়সী এক আবাসিক চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। নিহত চিকিৎসকের মা, পানিহাটির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ গত ১৩ মে শিয়ালদহ আদালতে নির্মল ঘোষ, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং দলের আরও এক কর্মী সোমনাথ দাসের গ্রেপ্তারের দাবিতে আবেদন জানিয়েছিলেন। এই আবেদনের মাসখানেক পরেই এই ঘটনাটি ঘটল। জানা গিয়েছে, নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের মূল কারণ হলো নিহতের পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের দাবি, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত যাতে না হয়, সেজন্য নির্মল ঘোষ ও তাঁর সহযোগীরা নিহতের দেহ দ্রুত দাহ করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের হাতে তুলে না দিয়েই দেহ দাহ করা হয়েছিল। যেখানে নিহতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল সেই শ্মশানঘাটটিও বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) সিবিআই-এর একটি দল পরিদর্শন করেন। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, সিবিআই এই মামলায় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠায় তাঁর মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের আশা পুনরায় জেগে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘১০ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে আমরা টালা থানায় মেয়ের দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু হঠাৎই আমার এক প্রতিবেশী ফোন করে জানান যে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় মেয়ের দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁরা তৎকালীন ডিসিপি (উত্তর) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও ডেকে আনেন এবং তাঁর সামনেই আমাদের কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আমার স্বামী সেই টাকা নিতে অস্বীকার করেন।’ তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ওই তিন নেতা পরিবারকে চাপ দিতে শুরু করেন এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়াই মৃতদেহটি শ্মশানে নিয়ে যান। রত্না দেবনাথ বলেন,
‘আমার বাড়ি এবং শ্মশান—উভয় জায়গাতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন মৃতদেহটি দাহ করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার মেয়ের মুখটাও ঠিকমতো দেখতে পারিনি। দাহকার্য শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’ এই মামলায় প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে ওই তিন নেতাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নির্মল ঘোষকে একই অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। মৃতার ময়নাতদন্তকারী দলের এক চিকিৎসক দাবি করেছিলেন যে, নির্মল ঘোষের এক সহযোগী নিজেকে মৃতার কাকা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাহকার্য দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সৌজন্যে : দ্য হিন্দু

75 Views