ওয়েব ডেস্ক : আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃতি পেয়ে আপ্লুত তোকিয়ার প্রবীণাশ্রমের আবাসিক মায়েরা। কারণ, বয়স যে কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, তা আরও একবার প্রমাণ করে ছাড়লেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের ‘তোকিয়া সিনিয়র সিটিজেন হোম’-এর এই আবাসিক মায়েরা। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এই প্রবীণাশ্রমের মায়েদের মুকুটে জুড়ল এক অনন্য পালক।যোগাভ্যাসে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ মন্ত্রক (Ministry of Ayush) থেকে এল মর্যাদাপূর্ণ শংসাপত্র ও স্বীকৃতি। আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবাসিক মায়েদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে এখানে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন করে নিয়মিত যোগ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অভিজ্ঞ যোগ প্রশিক্ষক রাজীব কুমার কুন্ডু মায়েদের এই প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন। এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও যোগ সপ্তাহ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়ুষ মন্ত্রকের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে মায়েরা যোগাসনে অংশ নেন। তাঁদের সেই আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই নয়াদিল্লির আয়ুষ মন্ত্রক এই বিশেষ স্বীকৃতি পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বৃদ্ধাশ্রমে ৬০ ঊর্ধ্ব মায়েরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আজীবন থাকার সুযোগ পান। তাঁদের ভরণপোষণ, চিকিৎসা থেকে শুরু করে যোগ প্রশিক্ষণ—সবকিছুরই দায়িত্ব পালন করে এই আশ্রম। এবারের যোগাভ্যাসে অংশ নিয়েছিলেন চিত্রা সরকার, জেনিফার পিন্টো, গঙ্গা রায়, গীতা ঘোষ, উষা সাহা, শোভা সাহা-সহ আশ্রমের মোট ২৭ জন আবাসিক। কেন্দ্রের এই শংসাপত্র হাতে পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বার্ধক্যকে জয় করে, সমস্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে জিয়াগঞ্জের এই মায়েদের কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলার সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসার প্রান্তিক ঘোষ তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মাত্র তিন মাস হলো এই আশ্রমের রেসিডেন্সিয়াল সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অর্পিতা লাহিড়ী। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কার্যকালের মধ্যেই আশ্রমের ঝুলিতে এল এত বড় সাফল্য। এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সুপার অর্পিতা লাহিড়ী জানান, ‘মায়েদের এই কৃতিত্ব আমাদের সকলের বুক গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে। যোগ প্রশিক্ষক রাজীব বাবু যেভাবে মায়েদের তৈরি করেছেন তা প্রশংসনীয়। আশ্রমের সম্পাদক বীরেন্দ্রনাথ ঘোড়ই এবং সভাপতি অচিন্ত্য জানা তাঁদের উচ্ছ্বাস গোপন রাখেননি। পাশাপাশি টেকনিক্যাল সাপোর্টে সন্তোষ দাস সহ আশ্রমের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তবে এই সাফল্য শুধু আমাদের আশ্রমের মায়েদের নয়, এটি সেইসব শুভানুধ্যায়ীদের জয়, যাঁরা প্রতিদিন আমাদের পাশে থেকে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন।’


