ওয়েব ডেস্ক : জলে ডুবে মৃত্যু দুই পড়ুয়ার। মঙ্গলবার দুপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলের খেলার মাঠ লাগোয়া পুকুরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে ওই দুই পড়ুয়া খেলার মাঠ লাগোয়া পুকুরে গামছা দিয়ে মাছ ধরার জন্য নেমেছিল। স্কুলের দিক থেকে নেমে পুকুরের পার বরাবর উল্টো দিকে গৌরাঙ্গ মন্দিরের দিকে গিয়েছিল। ওপারের ঘাটের ঠিক আগে গভীরতা বেশি থাকায় ঠাই না পেয়ে তলিয়ে যেতে থাকে তারা। স্থানীয় মহিলাদের চোখে পড়ায় তাঁরা চিৎকার করে লোকজন ডাকেন। স্থানীয় জনাকয়েক যুবক সঙ্গে সঙ্গে জলে নেমে একজন পড়ুয়াকে কোনও রকমে পারে তোলেন। এরপর একটি টোটো ডেকে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। যদিও হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই মৃত্যু হয় তার।

অপর পড়ুয়ার খোঁজে এরপর শুরু হয় তল্লাশি। অশোকনগর থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ আসে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্কুলের শিক্ষকরাও। স্থানীয় একাধিক যুবকের সঙ্গে দু একজন পুলিশকর্মী ও শিক্ষকও জলে নেমে অপর পড়ুয়ার খোঁজ করতে থাকেন। ডুবুরিদেরও খবর দেওয়া হয়। প্রায় ঘন্টাদেড়েক তল্লাশির পর ওই পড়ুয়ার মরদেহ উদ্ধার হয় বলে খবর। সূত্রের খবর, মৃত দুই পড়ুয়ার নাম প্রথম দাশগুপ্ত ও শিবম পাল। অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ভোকেশনাল বিভাগের ছাত্র প্রথম। আর শিবম ছিল একাদশ শ্রেণির কলা বিভাগের ছাত্র। উল্লেখ্য, ১৭ বছর বয়সী প্রথম দাশগুপ্তের বাবা-মা রাজেশ দাশগুপ্ত ও সোনালী দাশগুপ্ত দুইজনেই ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন। প্রথমের আদি বাড়ি অশোকনগর কল্যাণগড়ের ১৩ নং ওয়ার্ডে হলেও বর্তমানে রাজীবপুর বয়েজ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত সে।

অপর পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী শিবমের বাড়ি অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভা এলাকার ১০ নং ওয়ার্ডে। জানা গেছে, তার বাবা পেশায় দিনমজুর। নাম শুভঙ্কর পাল। এই দুই পড়ুয়ার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রসঙ্গত, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের কাজে অন্যত্র ছিলেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। খবর শোনামাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদিন স্কুলে অনুপস্থিত ছিল ওই দুই পড়ুয়া। পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ছবি ও তথ্যসূত্র : অশোকনগর কল্যাণগড় ফেসবুক পেজ

161 Views