ওয়েব ডেস্ক : অধ্যাবসায় অনুশীলন থাকলে যেকোনও বাধা টপকে যে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, তা প্রমাণ করলেন জামশেদপুরের তরুণ সঙ্গীতশিল্পী আশুতোষ পানিগ্রাহী। ২০ বছর বয়সে এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর স্বীকৃতি পেলেন তিনি। অটিজমের সাথে বেড়ে ওঠা এই তরুণ এর আগে ২০২৩ সালে, অ্যাবাকাস-ভিত্তিক গাণিতিক গণনায় একটি কৃতিত্বের জন্য ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের স্বীকৃতি লাভ করেন। একটি ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমকে আশুতোষ বলেন, ৫০টি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় রাগের ‘পাকড়’ (শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে বিশেষ স্বরলিপি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ) পরিবেশন করতে আমার তিন মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় লেগেছিল এবং আমি এশিয়া বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছি। তাঁর এই সাফল্যের জন্য তাঁর শিক্ষক এবং মাকে কৃতিত্ব দেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষক হতে আগ্রহী এই সঙ্গীতশিল্পী বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে অনুশীলন এবং আমার শিক্ষক পবন কুমার চৌবের ও আমার মা নিবেদিতার সবসময়ের সমর্থনের ফলে এই রেকর্ডসে স্থান পাওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি জানান, তাঁর লক্ষ্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, কারণ তিনি এখন থেকে কয়েক বছরের মধ্যে অ্যাবাকাস শিক্ষাদান এবং পাওয়ারলিফটিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান।
২০২৬ সালের অক্টোবরে আশুতোষ তাঁর শিক্ষক পবন কুমার চৌবের সামনে ৫০টি ভিন্ন রাগ শনাক্ত করার ‘পাকড়’ পরিবেশন করেন। তিন মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে উপস্থাপনাটি সম্পন্ন করে একটি রেকর্ড তৈরি করেন তিনি। আশুতোষ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সঙ্গীত ভালোবাসেন, বিশেষ করে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘৫০টিরও বেশি রাগ শিখে, আমি একদিন সেই জ্ঞান ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’ তাঁর মা নিবেদিতা জানান, ছোটবেলায় একটি সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় আশুতোষের প্রতিভা লক্ষ্য করেন সঙ্গীত শিক্ষক পবন কুমার চৌবে এবং তাঁকে শেখানোর প্রস্তাব দেন। চৌবের সঙ্গে দেখা হওয়া আশুতোষের প্রিয় আগ্রহটির আরও বিকাশের সুযোগ করে দেয়।
নিবেদিতা বলেন, ‘আশুতোষের জন্মের দিন থেকেই আমাদের বলা হয়েছিল যে তার এএসডি (অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার) আছে। তাই তাঁর পড়াশোনা নিয়ে আমাদের চিন্তিত হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু ঈশ্বরের নিজস্ব পথ আছে। তার প্রতিভা নজরে আসে এবং আজ সে একজন রেকর্ডধারী।’ শিক্ষক চৌবের কাছে সঙ্গীতের অনুশীলন রাগ সম্পর্কে আশুতোষের ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। আশুতোষ সম্পর্কে তাঁর শিক্ষক বলেন, ‘আশুতোষের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ এবং অনেক আগে শেখা জিনিসও সে অত্যন্ত স্পষ্ট মনে রাখতে পারে। যদিও তাঁকে শেখানোটা শুরুতে বেশ কঠিন ছিল, কিন্তু আশুতোষ সহজেই শিখে নিতে শুরু করে। যত তাঁর সঙ্গীত অনুশীলন এগোতে থাকে, দেখা যায় যে, শেখা জিনিস মনে রাখার ক্ষমতা তাঁর অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’ তাঁর সঙ্গীত তাঁকে জামশেদপুরের বাইরেও পরিচিতি দিয়েছে। আশুতোষ বারাণসীর অসি ঘাটে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছে, যেখানে তাঁর পরিবেশনা প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিবেদিতা আনন্দিত যে, তাঁর ছেলের প্রতিভা তাঁকে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তাঁর কাছে এই সার্টিফিকেটগুলো সেই দক্ষতার স্বীকৃতি। তিনি জানান, ‘সঙ্গীতই একমাত্র ক্ষেত্র নয় যেখানে আশুতোষ রেকর্ড বইয়ে নিজের স্থান করে নিয়েছে। ২০২৩ সালে অ্যাবাকাস-ভিত্তিক গাণিতিক গণনায় একটি কৃতিত্বের জন্য সে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের স্বীকৃতি লাভ করেছে।’ এই সাম্প্রতিক স্বীকৃতি তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আশুতোষের পরবর্তী লক্ষ্য সেই সঙ্গীত শিক্ষার মধ্যেই রয়েছে। তাঁর শেখা রাগগুলোকে নিজের একটি শ্রেণীকক্ষে নিয়ে গিয়ে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখাতে চান তিনি।
সূত্র : ETV Bharat, Asia Book of Records Official Website

