ওয়েব ডেস্ক : তাঁর স্বপ্ন শিক্ষক হবেন। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে আমেথির বাসিন্দা সুরজ সিবিএসই স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার আশায় লখনউ শহরে এসেছিলেন। কিন্তু পাননি। কারণ, সিবিএসই স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি মহিলাদের দখলে। তাতে কি? হাল ছাড়েননি সুরজ। তাঁর স্বপ্ন সফল করার লক্ষ্যে লড়াই শুরু করেছেন তিনি। লখনউতে অটো-রিকশা চালাতে চালাতে সুপার টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (সুপার টেট)-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুরজ তিওয়ারির এই গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন মল্লিকা আগরওয়াল। তিনি লিখেছেন, ‘কখনও কখনও সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক গল্প ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না। তাঁরা আমাদের ঠিক পাশেই বসে থাকেন, নীরবে নিজেদের স্বপ্নের দিকে কাজ করে যান।’ তিনি আরও লিখেছেন, আজ এই অটো ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো, যিনি তাঁর দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি সুপার টেট পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তিনি যেমন অন্যদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করছেন, তেমনই নিজের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আশা করি, এই যাত্রা তাঁকে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছুই এনে দেবে। আসুন আমরা তাঁর জন্য শুভকামনা জানাই। আর আপনিও যদি দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্যও।’

ভিডিওতে সুরজ বলেছেন যে, তিনি আমেথির বাসিন্দা এবং গত বছরের ডিসেম্বর থেকে লখনউতে থাকছেন। তিনি জানান, একটি সিবিএসই স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি শহরে এসেছিলেন, কিন্তু তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তার মতে, প্রাথমিক স্তরের বেশিরভাগ শিক্ষকের পদ নারীদের দখলে থাকায় তার পক্ষে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে, সুপার টেট পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর জন্য তিনি র‍্যাপিডোর মাধ্যমে একটি অটো-রিকশা চালানো শুরু করেন। ওই ভিডিওতে সুরজ বলেন, ‘আমি আমেথির বাসিন্দা এবং গত ডিসেম্বর থেকে লখনউতে থাকছি। আমি এখানে এসেছিলাম এই ভেবে যে, একটি সিবিএসই স্কুলে শিক্ষকের চাকরি পাব, কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না। বেশিরভাগ স্কুলেই মহিলারা প্রাথমিক স্তরে পড়ান, আর সেই কারণেই আমি চাকরিটা পাইনি। বাধ্য হয়ে আমি র‍্যাপিডোতে অটো চালাচ্ছি। কিন্তু আমি আমার স্বপ্ন ছেড়ে দিইনি। যখনই সময় পাই, আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাই।’ তাঁর ওই ভিডিওটি অনেক দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছে। কমেন্ট সেকশনে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁরা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আজকের দেখা সেরা ভিডিও’। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘তুমি সত্যিই অনেক বড় কিছু করবে। তোমার চোখই সব বলে দিচ্ছিল।’ অন্যরা বলেছেন যে, সুরজের চোখে ফুটে ওঠা আবেগ দেখে তারা আবেগাপ্লুত হয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তার চোখে জল’। অপর একজন মন্তব্য করেছেন যে, তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি চোখাচোখি এড়িয়ে যাচ্ছেন। কারণ তিনি তার আবেগ ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

সূত্র : এনডিটিভি (ndtv.com)

99 Views